মুখের যত্নেই ক্যানসার প্রতিরোধ!
শুধু ঝকঝকে দাঁত আর নিঃশ্বাসের সুগন্ধ নয়, মুখের সঠিক যত্ন আপনাকে বাঁচাতে পারে ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থেকেও! সম্প্রতি এইমস (AIIMS)-এর এক গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় উঠে এসেছে, মৌখিক স্বাস্থ্য বা ওরাল হাইজিনের সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। শুধু দাঁতের ক্ষয় বা মাড়ির সংক্রমণই নয়, নিয়মিত মুখের যত্ন না নিলে তা নানা গুরুতর অসুখের উৎস হতে পারে—এমনকি ক্যানসারেরও!
মুখের অসুখের প্রভাব পড়ে সারা শরীরে
এইমস-এর গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেন না বা ওরাল ইনফেকশন উপেক্ষা করেন, তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন অসুখের ঝুঁকি অনেক বেশি। এই তালিকায় রয়েছে হজমের সমস্যা, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, এমনকি ক্যানসারের সম্ভাবনাও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ হল শরীরের দরজা। সেখানে কোনও ব্যাকটেরিয়া বা ইনফেকশন তৈরি হলে, তা সহজেই রক্তপ্রবাহে মিশে শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে তা ক্যানসারজাতীয় জটিল রোগে রূপ নিতে পারে।
কী বলছে গবেষণা?
এইমস-এর গবেষকরা প্রায় ১৫,০০০ মানুষের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করে দেখেছেন, যাঁদের ওরাল হাইজিন ভাল, তাঁদের শরীর তুলনামূলক ভাবে বেশি সুস্থ। তাঁদের মধ্যে ক্যানসার বা দীর্ঘস্থায়ী অসুখে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কম। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নালে এবং ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের মহলে আলোড়ন ফেলেছে।
বিশেষ করে দাঁতের মাড়ি সংক্রান্ত রোগ যেমন ‘পেরিয়োডোন্টাল ডিজিজ’—তা থেকে শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষ বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সাধারণ মানুষ কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের মতো মারণ রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হতে পারে মুখের সঠিক যত্ন। প্রতিদিন কমপক্ষে দু’বার দাঁত ব্রাশ করা, ফ্লসিং, জিভ পরিষ্কার রাখা এবং সময়মতো ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়া উচিত।
নিয়মিত চেকআপে মুখে কোনও সংক্রমণ বা অস্বাভাবিকতা থাকলে তা প্রাথমিক স্তরেই ধরা যায় এবং চিকিৎসা সম্ভব হয়। মুখের ভিতরের কোনও ঘা, রক্তপাত বা লালচে সাদা দাগ অনেক সময় ক্যানসারের পূর্বাভাস হতে পারে—এমনটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকিতে কারা?
- যাঁরা ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন
- যাঁদের অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস রয়েছে
- মুখের পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা করেন
- দীর্ঘদিন দাঁতের বা মাড়ির সংক্রমণে ভোগেন
এই মানুষদের ক্ষেত্রে ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি অনেক বেশি। ফলে ওরাল হাইজিন বজায় রাখা শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, জীবন বাঁচানোর বিষয়ও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার
মুখের যত্ন নেওয়া মানেই শুধু চকমকে দাঁতের খোঁজ নয়—বরং এটি সারা শরীরের সুস্থতার এক গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। এইমস-এর গবেষণা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল, মুখের ছোট্ট একটা সংক্রমণও হতে পারে মারণরোগের সূচনা। তাই নিয়মিত ওরাল কেয়ারকে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করাই হোক আগামী দিনের লক্ষ্য।
শিক্ষার মন্দিরে নিরাপত্তাহীনতা! দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে পুলিশ পিকেট চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ অধ্যাপকরা