বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন!
বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় চমকে যাওয়ার মতো তথ্য সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। নথিতে নাম থাকলেও বাস্তবে বহু ভোটারই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না তাঁদের ঠিকানায়! এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনকে চিন্তায় ফেলেছে। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা আরও নিখুঁত করতে গিয়ে এই অস্বচ্ছতা ভাবাচ্ছে প্রশাসনকেও।
কী বলছে কমিশনের তথ্য?
বিহারের বেশ কিছু বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরে চালানো হয়েছে ভোটার তালিকা যাচাই অভিযান। দেখা গিয়েছে, ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের অনেকে আর ওই এলাকায় থাকেন না, কিংবা তাঁরা আদৌ ঐ নামে ঐ ঠিকানায় কখনও ছিলেন না। অর্থাৎ তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে মিলছে না তাঁদের অস্তিত্ব।
কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, তালিকা সংশোধনের সময়কার প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বহু নাম ‘ডাউটফুল’ বা সন্দেহজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এর সংখ্যা হাজারেরও বেশি। অনেক ক্ষেত্রেই ভোটারদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তাঁদের পাওয়া যাচ্ছে না, ফোন নম্বরও বন্ধ বা ভুল। কেউ কেউ অন্য জায়গায় বসবাস শুরু করেছেন, কেউবা বহুদিন আগেই প্রয়াত।
কীভাবে সামনে এল এই তথ্য?
নির্বাচন কমিশন প্রতি বছরই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ চালায়। বিশেষ করে যেসব জায়গায় ভোটের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ হয়। এবার বিহারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফিল্ড ভেরিফিকেশন করা হয়। সেখান থেকেই উঠে আসে এই গায়েব ভোটারদের তথ্য।
কমিশনের এক আধিকারিক জানান, কিছু জায়গায় ভোটারদের আত্মীয়রাই জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এখন আর ঐ এলাকায় থাকেন না। আবার কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রশ্ন তুলেছেন, “এই নামটা তো কোনোদিন শুনিনি!”
কেন ঘটছে এমনটা?
এই ধরনের সমস্যা তৈরি হওয়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেকে ঠিকানা বদলালেও ভোটার তালিকায় তা আপডেট করান না। কেউ কেউ চাকরি বা পড়াশোনার জন্য অন্য শহরে চলে গেছেন। আবার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভুয়ো ভোটার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। তবে কমিশনের তরফে এখনও তা স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।
কী পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন?
এই সমস্যার মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন আরও কঠোর হতে চলেছে। তারা জানিয়েছে, যেসব ভোটারদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বা যাঁদের তথ্য বিভ্রান্তিকর, তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। বাড়ি বাড়ি যাচাই করার কাজ আরও জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কমিশন এ-ও জানিয়েছে, যাঁদের নাম ভুলবশত বাদ পড়ে গিয়েছে, তাঁদের পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ দেওয়া হবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
উপসংহার
ভোটার তালিকা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। সেখানে এমন গাফিলতি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য শুধুই প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক ভাবেও গভীর উদ্বেগের। বিহারের এই ঘটনায় আবারও প্রমাণ হল, তথ্য যাচাই ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠু রাখা কঠিন। এবার দেখার, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ আগামী নির্বাচনে কতটা স্বচ্ছতা ফেরাতে পারে।
শিক্ষার মন্দিরে নিরাপত্তাহীনতা! দক্ষিণ কলকাতা ল কলেজে পুলিশ পিকেট চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ অধ্যাপকরা