আদালতে যাবজ্জীবন সাজা, হাসপাতালে গুলি!
বিহারের অপরাধ জগতে এক পরিচিত নাম চন্দন মিশ্র। একাধিক খুন, চাঁদাবাজি, অপহরণের মামলায় জড়িত এই গ্যাংস্টারের জীবন শেষ হল হাসপাতালে গুলির আঘাতে। আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল বন্দি হিসেবেই—তাও আবার বুলেটবিদ্ধ হয়ে! চন্দনের এই মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলছে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ও কারাবন্দিদের নিরাপত্তা নিয়ে।
কী ঘটেছিল সেদিন?
ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বেগুসরাই জেলার এক হাসপাতালে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন চন্দন। জেল থেকেই চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানেই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বন্দি অবস্থাতেই হাসপাতালের শয্যায় থাকা চন্দনের ওপর আচমকা চলে আসে একের পর এক গুলি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দু’জন দুষ্কৃতী হঠাৎ হাসপাতালের ভিতরে ঢুকে চন্দনের শয্যার পাশে গিয়ে গুলি চালায়। বেশ কয়েকটি গুলি লাগে তাঁর মাথা ও বুকের উপরে। হাসপাতালে থাকা পুলিশ নিরাপত্তাকর্মীরা মুহূর্তে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুষ্কৃতীরা চম্পট দেয়।
কে ছিলেন চন্দন মিশ্র?
চন্দন মিশ্র নামটি বিহারের অপরাধ জগতে নতুন নয়। তিনি ছিলেন বিখ্যাত অপরাধী গ্রুপ ‘মিশ্র গ্যাং’-এর মূল মাথা। একাধিক খুনের মামলায় তাঁর নাম ছিল মূল অভিযুক্ত হিসেবে। বিশেষ করে একটি রাজনৈতিক নেতার খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই মামলাতেই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত আজীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। পাশাপাশি, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক মামলাও তাঁর নামে চলছিল।
কী উদ্দেশ্যে এই খুন?
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই খুনের পেছনে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের প্রতিশোধপরায়ণতা। চন্দনের দীর্ঘ অপরাধজীবনে বহু শত্রু তৈরি হয়েছিল। সেই শত্রুদের কেউ সুযোগ পেয়ে তাঁকে সরিয়ে দিল বলেই মনে করছে প্রশাসন। তবে তদন্তকারীদের একাংশের মত, এই ঘটনা ‘গ্যাং ওয়ার’-এর অংশও হতে পারে, যাতে অপরাধ জগতের ক্ষমতার পালাবদল স্পষ্ট হয়ে যায়।
নিরাপত্তায় গলদ?
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। একজন হাই-প্রোফাইল বন্দিকে হাসপাতালে রাখা হলেও কীভাবে বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকে পড়ল? কোথায় ছিলেন নিরাপত্তাকর্মীরা? যদি বন্দির সঙ্গে পুলিশি পাহারা থাকে, তবে দুষ্কৃতীরা হাসপাতাল চত্বরে ঢুকল কীভাবে?
এই প্রশ্নগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে বিহারের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে। অনেকেই মনে করছেন, হয় নিরাপত্তায় মারাত্মক গাফিলতি ছিল, অথবা এই হত্যাকাণ্ডে কোনো ‘ইনসাইড হ্যান্ড’ কাজ করেছে।
শেষ কথা
চন্দন মিশ্রের মৃত্যু যতটা আলোড়ন ফেলেছে, ততটাই ভয় ধরাচ্ছে বিহারের আইনশৃঙ্খলার চিত্র দেখে। এমন এক বন্দিকে যদি হাসপাতালে বসেই হত্যা করা যায়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?
অপরাধের জগতে এমন মৃত্যুই যেন ‘শেষ পরিণতি’ হয়ে দাঁড়ায়, কিন্তু এই ঘটনার জেরে প্রশাসনিক গাফিলতি এবং অপরাধীদের বেপরোয়া মনোভাব—দুটোই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। তদন্ত চলছে, তবে এখন একটাই প্রশ্ন—চন্দন মিশ্রর মৃত্যু কি সত্যিই প্রতিশোধ, না কি আরও বড় কোনও চক্রের পর্দাফাঁস?
বিশ্বে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, রাশিয়া থেকে কিনে ভারতে স্থিতিশীলতা!