বিহারের ভোটার তালিকা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি বৃহস্পতিবার, মহুয়া মৈত্র-সহ চারটি মামলায় নোটিস নির্বাচন কমিশনকে

বিহারের ভোটার তালিকা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি বৃহস্পতিবার! বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR)…

July 7, 2025
1 min read

বিহারের ভোটার তালিকা বিতর্কে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি বৃহস্পতিবার!

বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত বিশেষ ও নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) নিয়ে চারটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। যার অন্যতম মামলাকারী তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত মামলাগুলি গ্রহণ করেছে এবং ঘোষণা করেছে—আগামী বৃহস্পতিবার হবে একত্রে শুনানি।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, শুনানির আগে মামলাকারী পক্ষগুলি নির্বাচন কমিশনকে নোটিস পাঠাতে পারবেন। বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়া ও জয়মাল্য বাগচী-র ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি শুনবেন।

কী কারণে বিতর্ক?

২০২৫ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই নির্বাচন কমিশন ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্যের ভোটার তালিকা বিশেষ ভাবে সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোটারদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে বলা হয়েছে, যেখানে আধার কার্ড, রেশন কার্ড নয়, শুধুমাত্র জন্মের শংসাপত্র, এমনকি বাবা-মায়ের জন্মসনদও চাওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশের বিরোধিতায় সরব হয়েছে একাধিক পক্ষ। তাঁদের বক্তব্য, এর ফলে তিন কোটির বেশি মানুষ ভোটাধিকার হারাতে পারেন, যাঁরা এত দিন ভোট দিয়ে আসছেন। কেন আবার নতুন করে নথি দিয়ে ভোটার হতে হবে—এই প্রশ্ন তুলেই মামলা দায়ের হয়েছে।

মহুয়া মৈত্রর বক্তব্য

কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই নির্দেশকে গণতন্ত্রের বিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে দাবি করেছেন, এই নির্দেশ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে হবে এবং এই ধরনের নিয়ম যাতে ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজ্যে প্রয়োগ না হয়, সে বিষয়ে সুরক্ষা দিতে হবে আদালতকে।

মামলার কথা জানিয়ে মহুয়া এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লিখেছেন,

“বিহারের SIR মামলা সুপ্রিম কোর্টে গৃহীত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নোটিস জারি হয়েছে। বৃহস্পতিবার শুনানি। সত্যমেব জয়তে।”

আর কারা মামলা করেছেন?

মহুয়ার সঙ্গে আরও তিনটি পক্ষ একই বিষয়ে মামলা দায়ের করেছে—

  • অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস (ADR)
  • পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ (PUCL)
  • আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা ও সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব

এদের সবার বক্তব্য—কমিশনের এই নতুন নীতির ফলে বহু প্রান্তিক নাগরিক, যাঁদের কাছে পূর্ণাঙ্গ নথিপত্র নেই, তাঁরা ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এটি একপ্রকার বিতর্কিত ভোটার ক্লিনজিং প্রক্রিয়া, যার সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও মানবিক প্রভাব পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

এই বিতর্কের মাঝেই কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রেও ভোটার তালিকায় নাম তোলার সুযোগ থাকবে। তবুও, বিরোধীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।

বৃহস্পতিবারের শুনানি ঘিরে সবার নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। এই রায়ের উপর নির্ভর করবে শুধু বিহারের নয়, গোটা দেশের ভোটার পরিচয় সংক্রান্ত নীতি ভবিষ্যতে কোন পথে এগোবে।

শুল্কনীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ ট্রাম্পের, ১২ দেশকে পাঠানো চিঠি ঘিরে উদ্বেগ—অথচ ভারতের সঙ্গে চুক্তি এখনও অনিশ্চিত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *