অফিস টাইমে ফের বিপত্তি মেট্রোতে!
কলকাতার প্রাণপ্রবাহ মেট্রো রেল পরিষেবা আবারও মুখ থুবড়ে পড়ল অফিস টাইমে। শুক্রবার সকালে দমদম-কবি সুভাষ (নিউ গড়িয়া) রুটের ডাউন লাইনে পর পর দাঁড়িয়ে পড়ল একাধিক মেট্রো রেক, যার জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য অফিসযাত্রী এবং পরীক্ষার্থীরা। ফের এই ধাক্কায় প্রশ্ন উঠছে মেট্রো রেলের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিষেবার মান নিয়ে।
হাওয়া অফিস থেকে বৃষ্টির পূর্বাভাস যেমন নিয়মিত আসছে, তেমনই যেন দমদম থেকে নিউ গড়িয়া রুটে মেট্রো বিভ্রাটও হয়ে উঠছে এক ‘নিয়মিত ঘটনা’। এ দিন সকাল আটটা পেরতেই সমস্যা শুরু হয়। মেট্রো রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যতীন দাস পার্ক স্টেশনে নিউ গড়িয়াগামী একটি মেট্রো রেক আচমকাই খারাপ হয়ে যায়। ফলে ডাউন লাইনে পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে একাধিক ট্রেন। স্টেশন থেকে স্টেশন পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ভিড় ক্রমশ বেড়ে যায় প্রতিটি কামরায়।
মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, সকাল ৯টা ৪০ মিনিট নাগাদ পরিষেবা আংশিকভাবে স্বাভাবিক করা যায়। তবে যাত্রীরা জানাচ্ছেন, ওই সময়ের পরেও প্রতিটি স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল ৫-৭ মিনিট করে। অতএব পরিষেবা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।
এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন বহু যাত্রী। এক অফিসযাত্রী বলেন, “সকাল ৯টার ট্রেনে উঠেছিলাম, অথচ ৯টা ৪০-এও ময়দানেই দাঁড়িয়ে। শুধু দেরি নয়, ভিতরে এত ভিড় হয়েছে যে দরজা বন্ধ হচ্ছিল না। এমন পরিষেবা আর কত দিন সহ্য করব?” কেউ কেউ আবার অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কামরার এসি পর্যন্ত কাজ করছে না ঠিকঠাক।
এর আগেও এই সপ্তাহের শুরু, সোমবার সকালেও শহরের ব্যস্ত সময়ে মুখ থুবড়ে পড়ে মেট্রো পরিষেবা। সেদিন পাতালপথে জল ঢুকে যাওয়ায় কবি সুভাষ থেকে দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত দু’ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকে পরিষেবা। বিশেষ করে চাঁদনি চক ও সেন্ট্রাল স্টেশনের মাঝে ট্র্যাকজুড়ে জল জমে যাওয়ায় যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থে মেট্রো বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ।
এই ঘটনা ফের প্রমাণ করল যে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন মাধ্যম হিসেবে পরিচিত মেট্রো রেলের যান্ত্রিক ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যাগুলি এখনও অনেকাংশে অপর্যাপ্ত রয়ে গিয়েছে। বারবার একই ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে যাত্রীদের প্রশ্ন— “কবে মিলবে নির্ভরযোগ্য মেট্রো পরিষেবা?”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ত্রুটি-গ্রস্ত রেকটি দ্রুত সারিয়ে পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন না ঘটে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ‘ভবিষ্যত’ ঠিক কবে আসবে?