ভোটার তালিকা থেকে বাদ নয়, দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল প্রতিনিধিদল

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল প্রতিনিধিদল! ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় যাঁরা নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও নাগরিকের নাম যেন কোনও পরিস্থিতিতেই বাদ না পড়ে—এই দাবিকে সামনে রেখে…

July 1, 2025
1 min read

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল প্রতিনিধিদল!

২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় যাঁরা নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কোনও নাগরিকের নাম যেন কোনও পরিস্থিতিতেই বাদ না পড়ে—এই দাবিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার দিল্লির নির্বাচন কমিশনের সদর দফরে হাজির হয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই দলে ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চির বরাইক এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার তিন সদস্য—ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও অরূপ বিশ্বাস।

সাম্প্রতিক কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ সার্বিক পরিমার্জনের (এসআইআর) ক্ষেত্রে ২০০৩ সালকে ভিত্তিবর্ষ ধরে নাগরিকদের নথিপত্র যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকাতেই আপত্তি তুলেছে তৃণমূল। প্রতিনিধি দল জানায়, এই নীতি কার্যকর হলে বিপুল সংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কমিশনকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি, ২০২৪ সালের তালিকা থেকেই এসআইআর হওয়া উচিত। ওই তালিকায় যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের আবার নথি জমা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।”

ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “যাঁরা ২০০৩ সালের পরে জন্মেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নথি চাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যাঁরা ভোটার তালিকায় রয়েছেন ও ২০২৪ সাল পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন, তাঁদের নতুন করে প্রমাণ দিতে বলা অনৈতিক। কমিশনের এ ধরনের নির্দেশের বিরুদ্ধে আমরা আপত্তি জানিয়েছি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে।”

এই দিন তৃণমূল দাবি তোলে, যেন নতুন ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির নামে মধ্যবয়সি (৫০-৬০ বছর বয়সি) নাগরিকদের হঠাৎ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা না হয়। এমন ঘটনা মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লিতে অতীতে দেখা গিয়েছে বলেই অভিযোগ দলের। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন পশ্চিমবঙ্গে না হয়, তার দাবিও জানানো হয়েছে।

বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। ফিরহাদের বক্তব্য, “ভোটের সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বুথে ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে, তারা ভোটারদের প্রভাবিত করছে। তাই আমরা বলেছি, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেও রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিও প্রয়োজনীয়। বুথে যেখানে ভোটগ্রহণ চলছে, সেখানে বাহিনী যেন প্রবেশ না করে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

তালিকা থেকে ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ দিতে গিয়ে যেন বৈধ নাগরিকদের হয়রানি না হয়, সেই দিকেও নির্বাচন কমিশনকে সজাগ থাকার বার্তা দিয়েছে তৃণমূল। পাশাপাশি, আধার নম্বর এবং ভোটার কার্ডের লিঙ্কিং যেন কোনও ভাবেই বাধ্যতামূলক না করা হয়—এই দাবিও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোট ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হতেই ভোটার তালিকা ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করে কার্যত নিজেদের রাজনৈতিক জমি আগেভাগেই শক্ত করতে মাঠে নামল তৃণমূল।

নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি স্থগিত, ট্রাম্পের সমর্থনের ছায়া কি পড়ল আদালতের সিদ্ধান্তে?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow
Explore More on These Topics

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *