তারুরের মন্তব্যে কটাক্ষ খড়্গের!
দেশপ্রেমের প্রশ্নে ফের একবার বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে নিজের বক্তব্যে আলোড়ন ফেলেছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর। আর তারই জবাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে সরাসরি নাম না করে কটাক্ষ করে জানালেন— “আমাদের কাছে দেশ আগে, তবে কারও কারও কাছে মোদীই আগে, দেশ পরে।”
সম্প্রতি ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি নিবন্ধ লেখেন শশী তারুর। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর আন্তর্জাতিক কূটনীতিক দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, মোদীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের সম্পদ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার এমন মন্তব্য দলীয় শিবিরে বিতর্কের ঝড় তোলে।
এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস সভাপতি খড়্গের মন্তব্য ছিল যথেষ্ট স্পষ্ট ও তাৎপর্যপূর্ণ। বুধবার তিনি বলেন, “আমি ইংরেজি অতটা ভালো পড়তে পারি না। কিন্তু শশী তারুরের ভাষা খুবই চমৎকার। সেইজন্যই তিনি আমাদের কার্যনির্বাহী কমিটিতে আছেন।” এর পাশাপাশি খড়্গে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেন, কারও কাছে দেশপ্রেমের মাপকাঠিতে মোদী আগে, দেশ পরে— যা দলের আদর্শবিরুদ্ধ।
প্রসঙ্গত, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারতের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে কেন্দ্রের তরফে বিরোধী ও শাসক শিবিরের সাংসদদের একাধিক আন্তর্জাতিক সফর আয়োজন করা হয়। এরই একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন তারুর। সেই সফর শেষে ‘দ্য হিন্দু’-তে তার প্রকাশিত লেখাটি নিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত।
খড়্গের কটাক্ষের ঠিক পরেই সামাজিক মাধ্যমে একটি বুদ্ধিদীপ্ত বার্তা দেন তারুর। সেখানে একটি ছবিতে দেখা যায়, একটি পাখি ডালে বসে আছে, যার নিচে লেখা— “ওড়ার জন্য কারও অনুমতি চেয়ো না। ডানা তোমার, আর আকাশের মালিক নেই।” রাজনৈতিক মহলের মতে, খড়্গের ইঙ্গিতপূর্ণ সমালোচনার পাল্টা জবাব এভাবেই দিয়েছেন তারুর।
পরবর্তীতে, তারুর নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন। তাঁর দাবি, ওই নিবন্ধে কোনওভাবেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বার্তা বা ইঙ্গিত ছিল না। বরং তিনি জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতের স্বার্থ রক্ষার বার্তাই দিতে চেয়েছিলেন।
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, দেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে আদর্শ ও ভাবনার স্তরে ফাটল এখনও রয়ে গেছে। একদিকে দলের সভাপতি বারবার জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলছেন, অন্যদিকে শীর্ষ নেতার প্রকাশ্য মোদী-প্রশংসা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে দলের দায়বদ্ধতা ও অবস্থান নিয়ে।
এই অবস্থায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসের মতো একটি বৃহৎ দলে ভিন্নমত থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দলীয় অবস্থান ও বার্তা যদি বারবার বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তবে তার সুফল বিজেপির মতো শাসক দলই তুলবে।
“দেশের সম্মান আগে”— পাকিস্তানি অভিনেত্রীর সঙ্গে দিলজিতের কাজ নিয়ে মুখ খুললেন মিকা সিং