চুপিসারে উড়ছে চিনা ‘মশা’: শত্রুর ঘাঁটিতে ঢুকে গোপন তথ্য আনার মাইক্রো ড্রোন বানাল বেজিং!

চুপিসারে উড়ছে চিনা ‘মশা’! একেবারে মশার মতো দেখতে, কিন্তু কাজে ভয়ঙ্কর! সামরিক গোয়েন্দাগিরি, নজরদারি কিংবা গোপন হামলা— সবেতেই এবার যুক্ত হতে চলেছে চিনের তৈরি বিশেষ মাইক্রো ড্রোন, যার আকার এক…

June 25, 2025
1 min read

চুপিসারে উড়ছে চিনা ‘মশা’!

একেবারে মশার মতো দেখতে, কিন্তু কাজে ভয়ঙ্কর! সামরিক গোয়েন্দাগিরি, নজরদারি কিংবা গোপন হামলা— সবেতেই এবার যুক্ত হতে চলেছে চিনের তৈরি বিশেষ মাইক্রো ড্রোন, যার আকার এক ইঞ্চিরও কম। এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে ‘মসকুইটো ড্রোন’ বা ‘মশা ড্রোন’। দেখতে নিছক পোকা হলেও এর ক্ষমতা দেখে শিউরে উঠছেন সামরিক বিশেষজ্ঞেরা।

চিনা সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, হুনান প্রদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স টেকনোলজি (NUDT)-র রোবোটিক্স ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়েছে এই মশা ড্রোন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিয়াং হেক্সিয়াং জানাচ্ছেন, এই ক্ষুদ্র রোবট নিজে থেকেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারে এবং নিঃশব্দে শত্রুর গোপন ঘাঁটিতে ঢুকে নজরদারি চালাতে পারে। আকৃতি মাত্র ১.৩ সেন্টিমিটার, যা খুব সহজেই গাছপালা, দেয়াল কিংবা পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে।

ড্রোনটিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ডানা, তিনটি সূক্ষ্ম পা এবং উন্নত সেন্সর, যা বায়ু ও জলমান পর্যবেক্ষণ ছাড়াও যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করতেও সাহায্য করতে পারে। এটি স্মার্টফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পাইলট ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম।

তবে শুধুই নজরদারি নয়, এই মশা ড্রোন একবার যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হলে তা হয়ে উঠতে পারে এক মারাত্মক অস্ত্রও। সেনার মধ্যে অনেকেই মনে করছেন, এই ড্রোন সহজে শনাক্ত করা যায় না বলেই এটি হয়ে উঠতে পারে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়াবহ। শুধু সামরিক কাজেই নয়, শিল্পক্ষেত্র ও পরিবেশ বিজ্ঞানেও এর ব্যবহার হতে পারে বলে মত গবেষকদের একাংশের।

তবে এর প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। যেমন, এত ছোট আকারের ড্রোনে বড় সেন্সর বা ভারী ব্যাটারি বসানো সম্ভব নয়। এর ফলে কাজের পরিসীমা ও স্থায়িত্ব নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। যদিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর প্রযুক্তি ও ব্যাটারি লাইফের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই ড্রোন ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর গোপন পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন প্রযুক্তির অপব্যবহারও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। চিনের এই পদক্ষেপ শুধু নজরদারির জন্য নয়, তাদের সামগ্রিক সামরিক আধিপত্য বিস্তারের কৌশলের অংশ বলেই মনে করছেন অনেকে।

অন্যদিকে, ইতিমধ্যেই এই ড্রোনের একটি প্রোটোটাইপ সম্প্রচার করেছে চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনের (CCTV) সামরিক চ্যানেল, যা প্রকাশ্যে আসতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

চিনের এই ‘মশা বাহিনী’ কতটা কার্যকর প্রমাণিত হবে, তা সময় বলবে। তবে একটি কথা নিশ্চিত— যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে, আর তার মধ্যমণি হয়ে উঠছে প্রযুক্তিনির্ভর ক্ষুদ্র কিন্তু মারণ ক্ষমতাসম্পন্ন রোবট ড্রোন।

“জসপ্রীত, আমাদের তোমাকে দরকার!”— স্ত্রীকে বোঝাতে বললেন গাওস্কর-পুজারা, বুমরার জবাবে মজার টুইস্ট

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *