শুভাংশুর হাত ধরে ইতিহাস গড়ার পথে লখনউয়ের সন্তান!
এক সময় রাকেশ শর্মা বলেছিলেন, “সারে জাহাঁ সে অচ্ছা”। তার ঠিক ৪০ বছর পর ফের এক ভারতীয়ের হাত ধরে মহাকাশে উড়তে চলেছে ভারতের গর্ব। লখনউয়ের ছেলে, ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্ল আজ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের উদ্দেশে পাড়ি দেবেন NASA-র Axiom-4 অভিযানের পাইলট হিসেবে।
মহাকাশে ফের এক ভারতীয়
সব ঠিক থাকলে ২৫ জুন, দুপুর ১২টা ১ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে SpaceX-এর Crew Dragon মহাকাশযান উড়ান দেবে। যাত্রা করবে পৃথিবীর কক্ষপথে অবস্থিত আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) দিকে। সেখানেই ১৪ দিনের বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পা রাখবেন শুভাংশু।
এই মিশনের পাইলট হিসাবে থাকছেন তিনিই। কমান্ডারের ভূমিকায় রয়েছেন NASA-র প্রাক্তন নভোচারী রেগি হুইটসন, যিনি এখন অ্যাক্সিয়ম স্পেস ইনকর্পোরেশনের মানব মহাকাশযান বিভাগের ডিরেক্টর। দলের অন্য সদস্যরা হলেন হাঙ্গেরির টিবর কাপু এবং পোল্যান্ডের স্লায়োস উজ়নানস্কি-উইসনিউস্কি।
যুদ্ধবিমান থেকে মহাকাশযান
শুভাংশু শুক্ল একজন অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট। তিনি AN-32, Jaguar, Hawk, MiG-21, Su-30MKI-র মতো যুদ্ধবিমান উড়িয়েছেন। কিন্তু মহাকাশযান চালানো একেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ। গত বছর অগাস্ট থেকে তিনি প্রশান্ত বালাকৃষ্ণন নায়ারের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন, যাঁকে শুভাংশুর বিকল্প হিসাবে রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষণ দিয়েছেন SpaceX ও Axiom-এর অভিজ্ঞ নভোচারীরা। এবার বাস্তব অভিযানে শুভাংশুর ভূমিকা শুধু প্রতীকী নয়—তিনি হচ্ছেন পুরো অভিযানের পাইলট, অর্থাৎ Dragon ক্যাপসুলের নিয়ন্ত্রণ থাকছে তাঁর হাতে।
বার বার পিছিয়ে যাওয়া মিশন
এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ২৯ মে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া, যান্ত্রিক ত্রুটি-সহ নানা সমস্যায় তা একাধিকবার পিছিয়েছে। অবশেষে চূড়ান্ত সময় ঠিক হয়েছে ২৫ জুন, দুপুরে। SpaceX-এর Falcon 9 রকেট এই উড়ান সম্পন্ন করবে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান?
এই অভিযান শুধু বৈজ্ঞানিক নয়, কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। একে তো ৪০ বছর পরে কোনও ভারতীয় মহাকাশে যাচ্ছেন, দ্বিতীয়ত, এটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে ভারতীয় পাইলট যুক্ত। শুভাংশু ও তাঁর সঙ্গীরা মহাকাশ স্টেশনে থেকে ৬০টিরও বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করবেন, যার মধ্যে মানুষের শরীরের ওপর মহাকাশের প্রভাব, কৃষির ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, এবং ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির ব্যবহার রয়েছে।
একটি গর্বের মুহূর্ত
আজ লক্ষ লক্ষ ভারতীয় শুভাংশুকে নিয়ে গর্বিত। তিনি প্রমাণ করে দিচ্ছেন, ভারতের প্রতিভা আর দক্ষতা কেবল দেশেই নয়, মহাকাশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বমঞ্চেও সমাদৃত। লখনউয়ের গলি থেকে স্পেস স্টেশনের কক্ষে—এ যেন এক রূপকথার বাস্তব রূপ!
“জসপ্রীত, আমাদের তোমাকে দরকার!”— স্ত্রীকে বোঝাতে বললেন গাওস্কর-পুজারা, বুমরার জবাবে মজার টুইস্ট