৩২ হাজার শিক্ষক ছাঁটাইয়ে প্রশ্নের মুখে বিচারপতি অভিজিতের রায়, ডিভিশন বেঞ্চে চাকরিহারাদের সওয়াল

৩২ হাজার শিক্ষক ছাঁটাইয়ে প্রশ্নের মুখে বিচারপতি অভিজিতের রায়! ২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ হওয়া ৪২ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়ে জারি থাকা বিতর্ক আরও একধাপ ঘনীভূত…

June 24, 2025
1 min read

৩২ হাজার শিক্ষক ছাঁটাইয়ে প্রশ্নের মুখে বিচারপতি অভিজিতের রায়!

২০১৪ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে নিয়োগ হওয়া ৪২ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়ে জারি থাকা বিতর্ক আরও একধাপ ঘনীভূত হল। কলকাতা হাই কোর্টে সোমবার চাকরিহারাদের একাংশের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গল বেঞ্চের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের রায়কে ‘আইন-বহির্ভূত’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, কোনও পক্ষের বক্তব্য না শুনেই একতরফা রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

কী নিয়ে বিতর্ক?

২০১৪ সালে প্রায় ১,২৫,০০০ প্রার্থী টেট উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪২,৯৪৯ জনকে নিয়োগ করে। অভিযোগ ওঠে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতি হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই কলকাতা হাই কোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ২০২৩ সালের ১২ মে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন— ৩২ হাজার শিক্ষককে চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে হবে।

এই রায়ের বিরোধিতা করে রাজ্য সরকার, পর্ষদ এবং চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে চাকরিচ্যুতদের পক্ষ থেকে নতুন করে প্রশ্ন তোলা হয় রায়ের প্রক্রিয়া এবং বৈধতা নিয়ে।

কী বললেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

কল্যাণের দাবি, সিঙ্গল বেঞ্চে সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে নিম্ন আদালতের মতো, কিন্তু কোনও সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “আমার মক্কেলদের না ডেকেই তাঁদের নিয়োগ অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্টের স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে। সিবিআই যদি সত্যিই কোনও অনিয়ম পেত, তবে কেন কাউকে জেরা করা হয়নি? কেন অভিযোগ আনা হয়নি?”

এমনকি, তিনি আরও দাবি করেন— একাধিক মামলায় হাই কোর্টের অন্য বেঞ্চ এই বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতার অজুহাতে মামলা খারিজ করেছে। কিন্তু সেই ডিভিশন বেঞ্চের অবস্থান সিঙ্গল বেঞ্চ মানেনি।

সিবিআই তদন্ত নিয়ে সন্দেহ

চাকরিচ্যুতদের পক্ষের আরও এক বড় অভিযোগ, সিবিআইয়ের তদন্ত ঘিরে অস্বচ্ছতা রয়ে গেছে। তদন্তে কোনও দৃঢ় প্রমাণ না পাওয়া গেলেও, একটি অনুমানের ভিত্তিতে বিচারপতি এত বৃহৎ সংখ্যক চাকরি বাতিল করেছেন বলে তাঁদের অভিযোগ।

পরবর্তী শুনানি ১ জুলাই

ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্র জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১ জুলাই। এখনও বহু পক্ষের সওয়াল বাকি রয়েছে বলে আদালত মনে করছে। ফলে এই মামলার নিষ্পত্তি এখনও অনেকদূরের বিষয়।

৩৫ হাজার ফুটে ও আরামেই ভেসে থাকুন! দীর্ঘ উড়ানে আরাম পাওয়ার ৭টি সহজ টিপস

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *