সোজাসাপটা মন্তব্য জয়া আহসানের!
শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলেন জয়া আহসান। বাঙালি দুই বাংলার দর্শকের কাছে তিনি শুধু নায়িকা নন, তিনি এক বোধ। এক বৃষ্টিভেজা কলকাতা শহরে বসে যখন কথা বলেন, তখন পুরনো শাড়ির ভাঁজ, ছোটবেলার প্রথম দুল, আর মা-দিদার গল্প মিশে যায় জীবনের দর্শনে। ঠিক সেই মুহূর্তে, প্রশ্ন ওঠে— নারীশক্তির মূল্য কতটা? এবং সত্যিই কি নারী তারকা হিসেবে বক্স অফিসে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেন না?
“তা হলে পুরুষরাই তো একা ফাটিয়ে দিতেন!”— এক নিঃশ্বাসে বলে উঠলেন জয়া। বলিউড কিংবা টলিউড— নারীদের সাফল্যকে আজও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। তবে জয়ার মতে, “শাকিব খান যেমন নিজের কাজ দিয়ে সব কটাক্ষের জবাব দেয়, আমিও তেমনটাই করি। এই জায়গা থেকেই শাকিবকে আমি শ্রদ্ধা করি।”
মায়ার জগতে পুরনো শাড়ি, পুরনো মানুষ
জয়া জানান, তাঁর কাছে পুরনো শাড়িগুলো মানে সময়ের দলিল। সপ্তম শ্রেণিতে দিদিমার উপহার দেওয়া প্রথম শাড়িটা এখনও তিনি যত্নে রেখেছেন। বলেন, “আমি কিছুই ফেলতে পারি না। পুরনো দুল, ছোট জামাকাপড়— সবই আছে আমার ওয়ার্কিং ক্লোসেটে। মায়ের থেকেও বেশি দিদার স্নেহে আমি বড় হয়েছি।”
প্রযুক্তি বদলেছে, কিন্তু মায়ের জায়গা বদলায়নি
সময়ের সঙ্গে মূল্যবোধ বদলেছে, মেনে নেন জয়া। তবে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, “যে সন্তান প্রযুক্তির মধ্যে বড় হচ্ছে, সেও এক সময় মায়ের পক্ষে দাঁড়ায়। কারণ মায়ের টানটাই আসল।” সেই মাকে নিয়েই জয়ার এমন এক অনুভব, যা খুব সহজে প্রকাশ্যে আনেন না। বলেন, “মাকে কখনও বলা হয়নি, ‘আমি তোমায় ভালোবাসি’। লজ্জা লাগে! অথচ, পৃথিবীর অন্য যে কাউকে অনায়াসে বলতে পারি।”
‘ডিয়ার মা’-র গল্প মা হওয়ার বাইরেও এক মাতৃত্বের অনুভব
অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর পরিচালনায় ‘ডিয়ার মা’ ছবির কেন্দ্রবিন্দুতে মা-মেয়ে সম্পর্ক, এবং সন্তান দত্তক নেওয়ার সংবেদনশীল গল্প। জয়ার কথায়, “সবাইকে বায়োলজিক্যাল মা হতে হবে এমন কোনও কথা নেই। আমাদের সমাজ এখনও রক্তের সম্পর্ক নিয়ে বেশি ভাবে। কিন্তু অনেক শিশুই আছে যারা মা-বাবা পায় না। আমরা তাদের আপন করে নিলে সমাজে সমানাধিকার বাড়ে।”
জয়া দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আজকের দায়িত্ববান নাগরিকদের উচিত দত্তক নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। মা শুধু শরীরের সম্পর্ক নয়, মনের সম্পর্কও বটে।”
চোখের ভাষা দিয়ে বলা গল্প
‘ডিয়ার মা’ ছবিতে জয়ার অভিনয়ে চোখই যেন বড় ভাষ্যকার। তিনি জানান, “চিত্রনাট্য এমনই ছিল। অনিরুদ্ধদা আর চিত্রনাট্যকার শাক্য এতটাই যত্ন নিয়ে কাজ করেছেন, আমি শুধু তাদের ভাবনা ধারণ করেছি। টিমের সবাই— ক্যামেরা, সাজ, পোশাক, শিশুশিল্পী— একসঙ্গে তৈরি করেছে এক নিখুঁত অনুভব।”
শেষ কথা?
জয়ার মতে, নারীরা কেবল পর্দায় নয়, সমাজে, সংসারে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাব রাখেন। আর সিনেমার মতো বড় পরিসরেও যদি নারীদের অবদান অস্বীকার করা হয়, তবে তা শুধু অবিচার নয়, অজ্ঞতা।
শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি