জয়া আহসানের ‘ডিয়ার মা’: সম্পর্কের জট খুলছে মন ছুঁয়ে যাওয়া এক চিঠিতে

জয়া আহসানের ‘ডিয়ার মা’! অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর নতুন ছবি ‘ডিয়ার মা’ নিছক একটা গল্প নয়, এটি এক আবেগঘন যাত্রা—একটা চিঠির মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেলানোর একান্ত প্রয়াস। বাংলার মননশীল সিনেমার ধারায়…

July 19, 2025
1 min read

জয়া আহসানের ‘ডিয়ার মা’!

অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর নতুন ছবি ‘ডিয়ার মা’ নিছক একটা গল্প নয়, এটি এক আবেগঘন যাত্রা—একটা চিঠির মাধ্যমে মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক মেলানোর একান্ত প্রয়াস। বাংলার মননশীল সিনেমার ধারায় এই ছবি আরও একটি সংযোজন, যেখানে জয়া আহসান অভিনয়ের মাধুর্য দিয়ে দর্শকের হৃদয়ে দাগ কাটেন।

গল্পটা কী?

‘ডিয়ার মা’-এর কেন্দ্রে রয়েছেন এক তরুণী—যিনি ছোটবেলা থেকে মায়ের সঙ্গে অদ্ভুত এক দূরত্বে বড় হয়েছেন। মায়ের কঠোরতাকে তিনি সব সময় নিজের প্রতি অবহেলা বলে ভেবেছেন। সময়ের সঙ্গে সেই দূরত্ব আরও বেড়েছে। কিন্তু একদিন হঠাৎ একটি চিঠি হাতে পান তিনি—একটি অসমাপ্ত চিঠি, যা লেখা হয়েছিল তাঁর জন্যই। সেই চিঠির শব্দে, লাইনের ফাঁকে-ফাঁকে খুলে যেতে থাকে পুরনো সম্পর্কের রহস্য, আর জানা যায় এক অজানা মায়ের গল্প।

এই চিঠিই ছবির মূল চালিকা শক্তি। এই ছোট্ট মাধ্যমেই অনিরুদ্ধ ছুঁয়ে ফেলেছেন মা-মেয়ের জটিল আবেগের সুর। কোনও অতিরঞ্জন নেই, নেই নাটকীয়তা। বরং এক ধরনের নীরব, সংযত ভাষায় বলা হয়েছে সেইসব কথাগুলো, যেগুলো হয়তো বহু পরিবারেই অপ্রকাশিত থেকে যায়।

জয়ার মুগ্ধ করা অভিনয়

জয়া আহসান আবারও প্রমাণ করলেন, তিনি বাংলা সিনেমার অনন্য শক্তি। তাঁর সংলাপবিহীন মুহূর্তগুলোয় চোখের ভাষায় যে আবেগ প্রকাশ পেয়েছে, তা শব্দের চেয়েও বেশি বলেছে। একটি মেয়ের ভিতরে জমে থাকা অভিমান, না-পাওয়ার যন্ত্রণা, এবং ধীরে ধীরে মাকে বোঝার পরিণত অনুভব—সবটাই জীবন্ত করে তুলেছেন তিনি।

জয়ার সঙ্গে পর্দায় মায়ের চরিত্রে ছিলেন একজন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী (স্পয়লার এড়াতে নাম উল্লেখ করছি না), যিনি নিজস্ব মাধুর্য নিয়ে চরিত্রে প্রাণ এনেছেন। তাদের দ্বৈত উপস্থিতি ছবির হৃদয়কে আরও গভীর করে তুলেছে।

নির্মাণ ও আবহ

অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরীর পরিচালনায় বরাবরের মতোই রয়েছে সংযম এবং সূক্ষ্মতা। তিনি মেলোড্রামার ফাঁদে পা না দিয়ে আবেগকে সহজভাবে বুনে গেছেন। ছবির চিত্রনাট্যে কোনও বাড়াবাড়ি নেই। প্রতিটি ফ্রেমের রঙ, আলোর ব্যবহার, এবং পটভূমির সাউন্ডস্কেপ—সব মিলিয়ে এক শান্ত, আবেগঘন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে ছবির শেষভাগে যে আবিষ্কারটি হয়, তা চোখে জল এনে দেয়। নিজের মায়ের অতীতের কথা জানতে পেরে মেয়েটির যে উপলব্ধি হয়, তা দর্শকের মনেও একধরনের শুদ্ধতা এনে দেয়।

কেন দেখবেন?

আজকের দুনিয়ায় যেখানে পরিবারে কথাবার্তা কমছে, সম্পর্কের জট আরও ঘনীভূত হচ্ছে, সেখানে ‘ডিয়ার মা’ মনে করিয়ে দেয়—অনেক সময় না বলা কথাগুলোই সম্পর্কের আসল চাবিকাঠি।

এটি সেই সিনেমা, যা দর্শকদের নিজ মায়ের কথা ভাবাতে বাধ্য করবে। অনেকেই হয়তো সিনেমা শেষে চুপচাপ নিজের মাকে একটা ফোন করবেন, বা হয়তো একটি ছোট্ট চিঠি লিখবেন—শুধু বলার জন্য, “আমি বুঝেছি।”

বিশ্বে তেলের দাম আকাশছোঁয়া, রাশিয়া থেকে কিনে ভারতে স্থিতিশীলতা!

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *