আমি যতই অভিনয় করি, ইয়ালিনি তাতে আমাকে খুঁজে পায়!
এক জন তারকার জীবনের পরিপূর্ণতা বলতে ঠিক কী বোঝায়? ক্যামেরার পেছনের বাস্তব, পর্দার উজ্জ্বলতা আর তার মাঝে এক টানটান ভারসাম্য। অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবন যেন এই তিনের মেলবন্ধন। ১৮ বছরের অভিনয়জীবনে নানা চরিত্রে অভিনয় করলেও, নিজের সন্তান ইয়ালিনির চোখে এখনও তিনি শুধুই “মা”—এই সত্যিই তাঁকে প্রতিদিন ছুঁয়ে যায়।
শুভশ্রীর এই পথচলা শুরু হয়েছিল বাণিজ্যিক ছবির নায়িকা হিসেবে। এক সময় ছিল গ্ল্যামার, নাচ, প্রেমের দৃশ্যে দর্শকের উচ্ছ্বাস। তারপর এল বিবাহ, মাতৃত্ব—আরও দায়িত্ব, আরও গভীরতা। এখন তিনি ‘তিতলি’, ‘ইয়ালিনির মা’, আবার হয়তো পরের মুহূর্তেই পর্দায় হবেন ‘তনুশ্রী’ কিংবা অন্য কেউ। তবুও প্রত্যেক ভূমিকাতেই নিজের কিছুটা ঢেলে দিতে পারেন বলেই, সেগুলোর ভেতরেও ইয়ালিনি তাঁকে খুঁজে পায়।
জীবন যেমন চেয়েছিলেন, তেমনই পেয়েছেন?
শুভশ্রী বলেন, ‘‘আমি কখনও একসঙ্গে অনেক কিছু চাইনি। যে ক’টা চেয়েছি, তা যত্ন করে ধরে রেখেছি।’’ ইনস্টাগ্রামে তাঁর ঝলমলে ছবিগুলি যতই পারফেক্ট লাগুক, জীবন যে নিখুঁত নয়—সেই সত্যি মেনে নিয়েই তিনি বাঁচেন। তাঁর কাছে জীবন মানে সরলতা, কৃতজ্ঞতা, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। এবং এই সরল পথই তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।
বিয়ে, সন্তান আর ক্যারিয়ার—একসঙ্গে?
শুভশ্রী সেই প্রমাণ, যাঁর জন্য বদলে গিয়েছে বিয়ের পরে অভিনেত্রীদের কাজ ছেড়ে দেওয়ার পুরনো বয়ান। মা হওয়ার সিদ্ধান্ত যখন নিয়েছিলেন, তখন অনেকে বলেছিলেন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে এমন ঝুঁকি! তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘‘আমি সব সময়েই জীবনকে এই ভাবেই দেখতে চেয়েছি।’’ এখন তিনি আবার নতুন ছবি ‘গৃহপ্রবেশ’-এ ফিরছেন ‘তিতলি’ রূপে—আরও বেশি পরিণত, আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী।
পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সঙ্গে তাঁর পেশাদার সম্পর্কের গভীরতা ফুটে উঠেছে নায়িকার কণ্ঠে। “তিতলিকে আমার কথা ভেবেই লেখা হয়েছে”—এমন নির্ভরতা এক জন অভিনেত্রীকে নতুন করে উজ্জীবিত করে। ‘জীতু-শুভশ্রী’ জুটির এই প্রথম পর্দা ভাগাভাগি। গল্প প্রেমের, আবার নয়ও; বন্ধুত্বের, আবার হয়তো আরও কিছু।
মা শুভশ্রী, শুধু অভিনেত্রী নন
ইউভান আর ইয়ালিনির মা এখন বুঝিয়ে দেন, অভিনয় তাঁর এক দিক, কিন্তু মা হওয়া তাঁর হৃদয়ের অংশ। কাজ থেকে ফিরে তিনি হয়ে ওঠেন শুধু মা। ইয়ালিনি টিভির পর্দায় মাকে দেখলেই চিৎকার করে ওঠে, “মা!” এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই তাঁর অভিনয়ের বাইরে জীবনের বড় প্রাপ্তি।
১০ বছরের আগের শুভশ্রীকে কী বলতেন?
নস্টালজিয়ার ঢেউয়ে ভেসে গিয়ে শুভশ্রী বলেন, ‘‘ওহ, কী বাচ্চা ছিলাম! আজকের আমি তখনকার আমিকে বলতাম, ‘তুমি খুব ভাল করেছ। আরও সাহস নিয়ে এগিয়ে যাও।’” সেই সাহসই তাঁকে এনে দিয়েছে নায়িকা থেকে অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পরিচয়। আজ, তিনি শুধু ‘নায়িকা’ নন, এক জন ‘চিন্তাশীল শিল্পী’।
এই সফর এখনও চলেছে, থামেনি। শুভশ্রী জানেন, এই যাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপই তাঁর সন্তানদের জন্যও এক রকমের উত্তরাধিকার।
চল্লিশের পর ফিটনেস মানে শুধু ঘাম নয়, সচেতনতা! লিসা রে জানালেন কোন ব্যায়াম থেকে দূরে থাকবেন