ভিটামিন ডি-র অভাবে চুল ঝরে!
চুল ঝরে যাচ্ছে, ত্বক শুষ্ক হয়ে উঠছে—এসবকে হয়তো আপনি আবহাওয়ার দোষ বলে পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু জানেন কি, এই সব সাধারণ উপসর্গের পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে ভিটামিন ডি-র মারাত্মক ঘাটতি? শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এই ভিটামিনের অভাবে যেমন হাড় দুর্বল হয়, তেমনই প্রভাব পড়ে আমাদের চুল ও ত্বকের উপরও। অনেকেই জানেন না, রক্তপরীক্ষা না করেও শরীরের কিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বোঝা সম্ভব ভিটামিন ডি-র অভাব হচ্ছে কি না।
ভিটামিন ডি মূলত সূর্যালোকের মাধ্যমে শরীরে তৈরি হয় এবং এটি ক্যালসিয়ামের শোষণ থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার কাজেও অপরিহার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ভিটামিনের ঘাটতি আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যেও দারুণ প্রভাব ফেলছে—বিশেষত চুল ও ত্বকে।
চুলের উপর ভিটামিন ডি-র প্রভাব
চুল পড়া এখন অনেকের কাছেই এক সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যদি আপনার চুল পাতলা হয়ে যেতে থাকে, কপাল ক্রমশ চওড়া দেখায়, কিংবা নতুন চুল গজানো বন্ধ হয়ে যায়—তবে সেটি ভিটামিন ডি-র ঘাটতির ফল হতে পারে। এই ভিটামিন চুলের ফলিকল বা মূলকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এর অভাবে চুলের বৃদ্ধির গতি কমে যেতে পারে এবং এমনকি অ্যালোপেসিয়া এরিয়াটা-র মতো অটোইমিউন সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেখানে হঠাৎ করে চুল জায়গায় জায়গায় ঝরে পড়ে।
এই ধরনের উপসর্গগুলো অনেক সময় অন্য কোনও সমস্যার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়, যেমন—দূষণ, স্ট্রেস কিংবা হরমোনজনিত সমস্যা। কিন্তু যদি চুল পড়ার পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণও দেখা যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
ত্বকের পরিবর্তনেও মিলছে সংকেত
ত্বক শুষ্ক, খসখসে বা মলিন হয়ে যাচ্ছে? শুধুই ময়েশ্চারাইজ়ার মেখে অথবা জল বেশি খেয়ে এর সমাধান সম্ভব নয় যদি এর পেছনে থাকে ভিটামিন ডি-র অভাব। এই ভিটামিন ত্বকের কোষ পুনরুৎপাদন ও ক্ষত নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে ত্বকের প্রাকৃতিক ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে গিয়ে ক্লান্ত, বিবর্ণ দেখাতে পারে। ত্বক হয়ে উঠতে পারে অতিরিক্ত সংবেদনশীল, এমনকি সোরিয়াসিস বা এগজ়িমার মতো ত্বকজনিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
কী করবেন?
এই লক্ষণগুলো দেখে ভয় না পেয়ে বরং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক ডায়াগনোসিস হলে চিকিৎসা সহজ। প্রয়োজনে রক্তপরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি সূর্যালোকে সময় কাটানো, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া যেমন দুধ, ডিমের কুসুম, সামুদ্রিক মাছ ইত্যাদি খাওয়া অভ্যাস করুন। তবে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, তাই নিজের মতো করে না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করুন।
চুল ও ত্বকের যত্নের সঙ্গে সঙ্গে এখন থেকে ভিটামিন ডি-র অভাবকেও গুরুত্ব দিন। কারণ ভিতরের ঘাটতিই ধীরে ধীরে বাইরে তার ছাপ ফেলে যায়।
পাতিলেবু খেলে মাইগ্রেন কমে? ডাক্তাররা যা বলছেন ভাইরাল টোটকা নিয়ে