যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যানের পর রাশিয়ার বিরুদ্ধে ফের তোপ ট্রাম্পের!
ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে ফের রক্ত ঝরছে। রাশিয়ার দাবি, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের অন্তত ১,৪৭৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে তাদের সামরিক অভিযানে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই আবারও ভ্লাদিমির পুতিনকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তাঁর হুঁশিয়ারি— যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে রুশ প্রেসিডেন্ট যেন “আগুন নিয়ে খেলছেন!”
ইউক্রেন আক্রমণে আগ্রাসী রাশিয়া, ক্রমেই জটিল পরিস্থিতি
মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ডনেৎস্কের স্টারায়া নিকোলায়েভকা দখল করেছে তাদের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে খারকিভেও সাফল্য দাবি করেছে মস্কো। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে ইউক্রেনের একাধিক শহরে।
এই পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
“আমি না থাকলে রাশিয়ায় আরও খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হত। পুতিন সেটা বুঝতে পারছেন না। তিনি থামছেন না। আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী হলেও ক্ষুব্ধ ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি স্থাপন নিয়ে সক্রিয় হয়েছেন ট্রাম্প। একদিকে যেমন পুতিনের সঙ্গে সংলাপে বসেছেন, অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সঙ্গেও বারবার আলোচনা করেছেন।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “আমি যুদ্ধ পছন্দ করি না।” কিন্তু রুশ সেনার ধারাবাহিক আক্রমণ ও যুদ্ধবিরতি নিয়ে গড়িমসি দেখে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। কিছু দিন আগেই পুতিনকে ‘পাগল হয়ে গিয়েছেন’ বলেও কটাক্ষ করেছিলেন তিনি।
পুতিনের প্রত্যুত্তরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি
ট্রাম্পের এই তোপ মস্কো ভালভাবে নেয়নি। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ পাল্টা মন্তব্য করেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পকে নিশানা করে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিনগুলোর কথা।
এই বক্তব্যে মেদভেদেভ বোঝাতে চেয়েছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য শুধু উত্তেজনা বাড়ায়— সমাধান আনে না।
যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ ব্যর্থ, আশঙ্কায় বিশ্ব
আন্তর্জাতিক মহল কিছু দিন আগেই রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আলোচনার টেবিলে বসার আগেই পিছু হটে যায় মস্কো। বিশ্বজুড়ে এই অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রাশিয়ার একের পর এক আক্রমণ, ইউক্রেনের চরম ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির ব্যর্থতা— এই সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে।
কবিতা না কি যুদ্ধ? নুসরতের রহস্যঘেরা পোস্টে কি সম্পর্ক পুনর্মিলনের ইঙ্গিত?