আমি অনামিকা হয়ে গেলাম, কারণ উত্তর দিইনি
টলিউডের পরিচিত মুখ, প্রায় চার দশক ধরে যিনি দর্শকদের মন জয় করে এসেছেন—তিনি অনামিকা সাহা। কিন্তু পর্দার আড়ালে তাঁর যাত্রা ছিল কঠিন, কাঁটাভরা। এত দিন পর, অবশেষে মুখ খুলেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। জানালেন—“আগে ভয় পেতাম, যদি আর কাজ না পাই! সবাই তো নামী শিল্পী, আমি কথা বললে কে শুনবে?”
ভয়কে জয় করে অবশেষে অকপট অনামিকা
অনামিকা সাহা আজ যা বলছেন, তা তিনি আগেই বলতে পারতেন। কিন্তু ভয় ছিল। কাজ হারানোর ভয়, বাতিল হয়ে যাওয়ার ভয়। “তখন অনেক পুরনো শিল্পীরা নতুনদের একটুও জায়গা দিতে চাইতেন না,” জানালেন তিনি। “এখন বয়স হয়েছে, মনে হয়—আর কবে বলব? মুখ বন্ধ রাখার সময় পেরিয়ে গেছে।”
অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে উঠে এল ‘অব্রাহ্মণ’ পরিচয়ের বেদনা
অনামিকা জানিয়েছেন, থিয়েটারের দিনগুলোয় তাঁকে ‘অব্রাহ্মণ’ হওয়ায় শুনতে হয়েছে অপমানের কথা। “সেটে কেউ না কেউ বলেই দিত—ও তো অব্রাহ্মণ, একসঙ্গে খাওয়া যাবে না,” বললেন তিনি। নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নিতে বারবার লড়াই করতে হয়েছে তাঁকে। কলকাতায় এসেই তাঁকে বুঝতে হয়েছে, বাইরের মেয়ে হলে কাজ পাওয়া আরও কঠিন।
‘কালো বৌ’ দেখে শাশুড়ির কান্না—আরও এক স্তব্ধ স্মৃতি
নিজের অভিনীত একটি চরিত্র—‘কালো বৌ’ দেখে এমন প্রভাব পড়েছিল, যে তাঁর শাশুড়ি চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। “সে দিন আমার শাশুড়ি আমায় জড়িয়ে ধরে কেঁদে বলেছিলেন—তুই তো খুব ভাল অভিনেত্রী,”—এই স্মৃতি বলতে বলতে এখনও আবেগে গলা ভারী হয়ে ওঠে অনামিকার।
নামহীন থেকে ‘অনামিকা’ হয়ে ওঠা—এক আকস্মিক অধ্যায়
কলেজ পড়ুয়া ঊষা সাহা কীভাবে হয়ে উঠলেন অনামিকা সাহা? অভিনেত্রী জানালেন, একদিন দিদির সঙ্গে গিয়েছিলেন স্টুডিয়োপাড়ায়। তখন কেউ তাঁর নাম জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেননি। ভদ্রলোক তখন বলেছিলেন—“তুমি কি অনামিকা?” তিনি চুপ করে মাথা নাড়েন। আর সেদিন থেকেই হয়ে যান অনামিকা।
সবাই খারাপ ছিলেন না, তবু মুখোশ টানার সময় এসেছে
অনামিকা স্পষ্ট বললেন, “সব শিল্পী খারাপ ছিলেন না। অনেকেই সাহায্য করেছেন। তা না হলে এত দূর আসতে পারতাম না। কিন্তু যারা অত্যাচার করেছেন, তাঁদের মুখোশ আজ খুলে ফেলতে চাই।” এখন আর তাঁর কাজ হারানোর ভয় নেই। তাই দেরিতে হলেও বলতে পারছেন নিজের কথা।
উপসংহার
অনামিকা সাহার জীবনের এই অধ্যায় আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিল্পের জগতে বাইরের চকচকে দুনিয়ার আড়ালে কত কঠিন বাস্তব লুকিয়ে থাকে। একজন শিল্পীর লড়াই শুধু প্রতিভার নয়, নিজের পরিচয়, শ্রেণি, সমাজ এবং সুযোগের সঙ্গে চলা নিরব যুদ্ধও।
‘দেশি অস্ত্রেই জয়ের গল্প’ — ‘মন কি বাত’-এ মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য তুলে ধরা