শাহবাজ় শরিফের তুরস্ক সফর: ভারত-পাক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ‘বন্ধু’ রাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা

শাহবাজ় শরিফের তুরস্ক সফর! ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চরম উত্তেজনার আবহে চারটি ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র সফরে বেরিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। রবিবার সেই কূটনৈতিক সফরের সূচনা হয়েছে তুরস্ক দিয়ে। প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট…

May 26, 2025
1 min read

শাহবাজ় শরিফের তুরস্ক সফর!

ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চরম উত্তেজনার আবহে চারটি ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র সফরে বেরিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। রবিবার সেই কূটনৈতিক সফরের সূচনা হয়েছে তুরস্ক দিয়ে। প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্দোয়ানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন শাহবাজ়, যেখানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।

তুরস্কে গিয়েই ভারত প্রসঙ্গ
পাকিস্তানের সরকারি সংবাদমাধ্যম পিটিভি নিউজ-এর সূত্র ধরে ডন জানায়, শাহবাজ়ের সঙ্গে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আয়াতুল্লা তারার। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছাড়াও ভারতকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।

তুরস্কের সরাসরি সমর্থনে কৃতজ্ঞতা
সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে তুরস্ক খোলাখুলি পাকিস্তানকে সমর্থন জানিয়েছে। এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানকে কৃতজ্ঞতা জানান শাহবাজ় শরিফ। বৈঠকের পর নিজের সামাজিকমাধ্যমে তিনি লেখেন, “ইস্তানবুলে আমার প্রিয় ভাই প্রেসিডেন্ট এর্দোয়ানের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠক হল। ভারত-পাক সংঘাতে পাকিস্তানের পাশে থাকার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। পাকিস্তানের জনগণের পক্ষ থেকে তুরস্কের ভাইবোনদের শুভেচ্ছা রইল।”

অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার
শুধু রাজনৈতিক নয়, এই সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছেন দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বাড়ানো, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার দিকনির্দেশ দেন তাঁরা। শাহবাজ় লিখেছেন, “পাকিস্তান ও তুরস্কের সম্পর্ক গভীর, এবং আমরা একে আরও দৃঢ় করতে কাজ করে যাব। আমাদের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন দীর্ঘজীবী হোক।”

কূটনৈতিক সফরের তাৎপর্য
এই সফর নিছকই সৌজন্য সফর নয়, বরং ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সমর্থন নিশ্চিত করার প্রয়াস হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তুরস্ক, ইরান, চীন ও সৌদি আরব—এই চার ‘বন্ধু’ রাষ্ট্র সফরের মাধ্যমে ইসলামাবাদ একদিকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করছে।

উপসংহার
প্রথম দিনেই তুরস্ক থেকে যথেষ্ট ইতিবাচক বার্তা নিয়ে ফিরেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার, পরবর্তী গন্তব্যগুলোতেও তিনি কতটা আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হন এবং তা ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে কতটা প্রভাবিত করে।

‘দেশি অস্ত্রেই জয়ের গল্প’ — ‘মন কি বাত’-এ মোদীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য তুলে ধরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *