তুরস্কের সঙ্গে ‘টেক অফ’ নয়!
ভারতের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এবার তুরস্কের বিমান সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চলেছে। কেন্দ্রের সুস্পষ্ট নির্দেশের পরই এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হল তারা। আগামী ৩১ অগস্টের মধ্যেই তুর্কি বিমান সংস্থার সঙ্গে সমস্ত ‘লিজ’ চুক্তি বাতিল করার কথা জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
তুরস্ক-পাকিস্তান সম্পর্কের প্রভাব ভারতের সিদ্ধান্তে
সম্প্রতি ভারতের সঙ্গে তুরস্কের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়, যার মূল কারণ তুরস্কের প্রকাশ্যভাবে পাকিস্তানকে সমর্থন জানানো। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে, তুরস্কের অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার কড়া মনোভাব নেয়। এরই প্রেক্ষিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম—তুরস্কের সঙ্গে বিমান পরিষেবার সম্পর্ক ছিন্ন করা।
ইন্ডিগোর হাতে সময় সীমিত
বর্তমানে ইন্ডিগোর বহরে রয়েছে প্রায় ৪০০টি বিমান। তার মধ্যে মাত্র দুটি বোয়িং ৭৭৭ বিমান ‘লিজ’ নেওয়া হয়েছিল তুরস্কের বিমান সংস্থা থেকে। এই দুটি বিমানই বর্তমানে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক রুটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। তবে ৩১ মে এই লিজের অনুমতি শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। ইন্ডিগো কেন্দ্রের কাছে আরও ছ’মাস সময় চাইলেও, সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—সময়সীমা বাড়ানো হবে না। যাত্রীসুবিধার কথা মাথায় রেখে আপৎকালীন ভিত্তিতে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে মাত্র। এর পর আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
কেন্দ্রীয় বিবৃতি ও সিইও-র অবস্থান
বেসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক তাদের বিবৃতিতে জানায়, “ইন্ডিগোর আবেদনের ভিত্তিতে সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ অগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে, তবে এরপর আর কোনো সময় বাড়ানো হবে না। এর মধ্যেই তাদের ‘লিজ’ বাতিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।”
ইন্ডিগোর সিইও পিটার এলবার্স আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, সংস্থা সরকারের নিয়ম মেনেই চলে এবং প্রয়োজন হলে চুক্তি বাতিলও করা হতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। যদি নিয়ম পরিবর্তন হয়, অবশ্যই আমরা তার অনুসরণ করব।” সেই অনুযায়ীই এবার সরকারি নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তায় জোর কেন্দ্রের
তুরস্কের সংস্থা ‘সেলেবি’-কে সম্প্রতি ভারতের বিমানবন্দরগুলিতে পরিষেবা দেওয়ার অনুমতি বাতিল করা হয়েছিল। একই সঙ্গে, তাদের নিরাপত্তার ছাড়পত্রও বাতিল করে দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে প্রভাব
- তুরস্কের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব ভারতের আভ্যন্তরীণ নীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে
- ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক রুটে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প খোঁজার চেষ্টা চলছে
- জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে সরকার আপসহীন, বেসরকারি সংস্থাকেও তার আওতায় আনছে
বেলের পানা: মোগল দরবার থেকে ওড়িশার পুজোর প্রসাদ—ভারতের প্রাচীন শরবতের আশ্চর্য যাত্রা