ঝড়-বৃষ্টির দাপটে ভোরবেলাতেই স্তব্ধ দিল্লি!
রবিবারের ভোর দিল্লিবাসীর জন্য শুরু হয় এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়ে। রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হলেও, ভোরের দিকে আবহাওয়া আরও খারাপ হয়। ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে থাকে, সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ সহ ভারী বর্ষণ। এর জেরে শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় জলযন্ত্রণা—জলমগ্ন হয়ে পড়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, গাছ উপড়ে পড়ে বহু জায়গায়।
বিমান চলাচলেও বিশৃঙ্খলা
দিল্লি বিমানবন্দরে ভোর থেকে শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ১০০-র বেশি বিমানের উড়ান ও অবতরণে দেরি হয়। ঝড়ের কারণে অন্তত ২৫টি বিমানের পথ ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দর থেকে একটি অ্যাডভাইজ়রি জারি করা হয়, যেখানে যাত্রীদের বিমান সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলার অনুরোধ করা হয়।
প্লাবিত রাস্তায় যানজট, গাড়ি আটকে নাকাল নাগরিক
বৃষ্টির দাপটে প্লাবিত হয়েছে দিল্লির একাধিক এলাকা—ময়ূর বিহার, মিন্টো রোড, মোতি বাগ, এমনকি বিমানবন্দরের মূল আন্ডারপাসও জলের নিচে চলে যায়। সেখানে আটকে পড়ে বহু গাড়ি। সফদরজং অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ ছিল ৮১ মিলিমিটার, পুসায় ৭১ মিলিমিটার, পালমে ৬৮ মিলিমিটার এবং ময়ূর বিহারে ৪৮ মিলিমিটার। রাজধানীর একাধিক রাস্তায় তৈরি হয়েছে জলের থৈ থৈ পরিস্থিতি।
এনসিআর-এ একই চিত্র
শুধু দিল্লি নয়, আশপাশের নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা, এবং গুরুগ্রামেও ভোর থেকে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়। গুরুগ্রামের সেক্টর ১০ ও বিকাশ নগর অঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রাস্তা জুড়ে যান চলাচল কার্যত থমকে যায়।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, রবিবার দিনভর এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় দিল্লিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। সঙ্গে কোথাও কোথাও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি রয়েছে। ইতিমধ্যেই দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছিল শনিবার সন্ধ্যাবেলা, যা রবিবার বাস্তবে পরিণত হয়।
এই আকস্মিক দুর্যোগে রাজধানীর জনজীবন একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। প্রশ্ন উঠছে, বৃষ্টির মৌসুম না হলেও কেন এত ভারী বর্ষণ হল এবং পরিকাঠামো এখনও কেন এই দুর্যোগ সামলাতে অক্ষম? তবে আপাতত নাগরিকদের একটাই চাওয়া—আবহাওয়ার উন্নতি হোক, এবং শহর আবার ফিরুক স্বাভাবিক ছন্দে।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের সম্ভাবনা, আগামী সপ্তাহে দক্ষিণের ছয় জেলায় মুষলধারে বৃষ্টি