‘এনক্রিপ্টেড চ্যাট’-এ ছদ্মবেশ! পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে গোপন যোগে কীভাবে তথ্য পাচার করতেন ইউটিউবার জ্যোতি

তথ্য পাচার করতেন ইউটিউবার জ্যোতি! হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা যে শুধু ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন, তা নয়—তাঁর আরেকটা গোপন পরিচয় ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন…

May 21, 2025
1 min read

তথ্য পাচার করতেন ইউটিউবার জ্যোতি!

হরিয়ানার ইউটিউবার জ্যোতি মলহোত্রা যে শুধু ভিডিও বানিয়ে জনপ্রিয় হয়েছিলেন, তা নয়—তাঁর আরেকটা গোপন পরিচয় ছিল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। আর সেই যোগাযোগ ছিল এতটাই নিখুঁতভাবে গোপন, যে তাঁকে ধরতে বেশ সময় লেগেছে তদন্তকারীদের। সম্প্রতি পাওয়া ডিজিটাল তথ্য থেকে উঠে এসেছে, জ্যোতি নিয়মিত ‘এনক্রিপ্টেড চ্যাট’ প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং নামগুলো মোবাইলে ছদ্মপরিচয়ে সেভ করতেন!

তদন্তে উঠে এসেছে, জ্যোতি তাঁর মোবাইল এবং অন্যান্য ডিভাইসে স্ন্যাপচ্যাট, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন যোগাযোগের জন্য—সবই ‘এনক্রিপ্টেড’ মাধ্যম। এর অর্থ, এসব চ্যাট সাধারণভাবে খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, যদি না বিশেষ প্রযুক্তি দিয়ে তা ভেঙে দেখা হয়।

সূত্র বলছে, জ্যোতির সঙ্গে পাকিস্তানের দূতাবাসের এক আধিকারিক এহসান দার ওরফে দানিশ-এর পরিচয় হয় হরিয়ানার এক গুরুদ্বার পরিচালন কমিটির সদস্য হরকিরৎ সিংহ-এর মাধ্যমে। হরকিরৎ অন্তত দু’বার জ্যোতিকে সাহায্য করেছিলেন পাকিস্তানি যোগাযোগে, এমনটাই মনে করছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে জ্যোতির সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল জ্যোতির। সেই সময় তিনি পাকিস্তান সফরেও যান। ভারতে ফেরার পরও পাকিস্তানি নাগরিকদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ অটুট ছিল। বিশেষ করে ‘জাট রান্ধাওয়া’ নামে সেভ করে রাখা এক নম্বরের সূত্র ধরে জানা গিয়েছে, এটি আসলে এক পাকিস্তানি এজেন্ট শাকির-এর ফোন নম্বর। নিজের আসল যোগাযোগ গোপন রাখতেই জ্যোতি এসব ভুয়ো পরিচয়ে নম্বর সংরক্ষণ করতেন।

এখানেই শেষ নয়। সূত্রের দাবি, পাকিস্তানে থাকাকালীন জ্যোতির সঙ্গে আলাপ হয় কয়েকজন পাকিস্তানি নিরাপত্তা অফিসার-এর। তাঁদের মাধ্যমেই তিনি পরিচিত হন আইএসআই-এর কয়েকজন কর্তার সঙ্গে। তবে তাঁদের সঙ্গে তিনি ঠিক কী রকম তথ্য আদানপ্রদান করতেন, তা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।

আরও বিস্ফোরক তথ্য পাওয়া গিয়েছে জ্যোতির হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন থেকে। সেখানে তিনি আলি হাসান নামে এক আইএসআই ‘হ্যান্ডলার’-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। কথোপকথনে ব্যবহার করা হত সাঙ্কেতিক শব্দ—যেমন “প্রোটোকল”, “আন্ডারকভার এজেন্ট” ইত্যাদি। তদন্তকারীদের দাবি, এই আলি হাসানই পাকিস্তানে জ্যোতির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

এই গোটা ঘটনায় তদন্তকারীরা মনে করছেন, জ্যোতির ইউটিউব চ্যানেল ছিল শুধুমাত্র একটি মুখোশ—যার আড়ালে তিনি চালিয়ে যাচ্ছিলেন দেশবিরোধী কার্যকলাপ। তাঁর বিরুদ্ধে জমা হওয়া তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ এখন বিচার প্রক্রিয়ার পথে। তদন্তে আরও বহু চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *