লাহৌরের সামরিক হাসপাতালে লশকর নেতা আমির হামজ়া!
জঙ্গি সংগঠন লশকর-এ-তোইবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মুখ্য মুখপত্রের সম্পাদক আমির হামজ়া গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি লাহৌরের একটি সামরিক হাসপাতালে। ৬৬ বছর বয়সি আমির কীভাবে আহত হলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর বাড়িতেই এই ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিক সূত্রের দাবি। তবে এটি নিছক দুর্ঘটনা, না কি পরিকল্পিত হামলা—তা ঘিরে ধোঁয়াশা বাড়ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা মহলে।
সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি আইএসআই-এর নিরাপত্তা ঘেরাটোপে চিকিৎসাধীন। গত সপ্তাহেই লশকরের আর এক শীর্ষ নেতা আবু সইফুল্লা অজ্ঞাত বন্দুকবাজের হাতে নিহত হন। ঠিক তার পরপরই আমিরের এই আহত হওয়ার ঘটনাকে সাধারণ দুর্ঘটনা বলে মানতে পারছে না অনেকেই। দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন গোয়েন্দারা। লশকরের অন্দরে কি আদৌ কোনও গোপন অন্তর্ঘাত চলছে?
মঙ্গলবার লশকর ঘনিষ্ঠ ‘টেলিগ্রাম’ চ্যানেলগুলিতে আমির হামজ়ার অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই দলের মধ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে। দলের অনুগামীরা সামাজিক মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও সংকট কাটিয়ে ওঠার বার্তা দেন। যদিও সংগঠনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা আমির হামজ়া ২০১২ সালে আমেরিকার তরফে ‘গ্লোবাল টেররিস্ট’ বা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী হিসেবে ঘোষিত হন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই লশকরের অন্যতম মুখ্য সংগঠক ও প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন। লশকর প্রধান হাফিজ় সঈদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত আমির, ২০০০ সালের গোড়ার দিকে ভারতে সক্রিয় ছিলেন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে ২০০৫ সালের হামলার ছক তিনিই সাজিয়েছিলেন সইফুল্লার সঙ্গে।
২০১৮ সালে লশকর এবং জামাত-উদ-দায়ার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপলে, তিনি হাফিজ়ের নির্দেশে তৈরি করেন ‘জইশ-ই-মানকাফা’ নামের একটি নতুন সংগঠন। যদিও অনেকে তখন ধারণা করেছিলেন, লশকরের ভিতরে বিভাজনের ফলেই এই নতুন সংগঠনের জন্ম, পরে জানা যায় এটি ছিল কৌশলী ‘ছদ্মবেশ’—মূল সংগঠনের কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার জন্য।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতীয় মহলও সজাগ। ভারত আগেই অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান সরকার সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যক্ষভাবে মদত দিয়ে আসছে এবং লশকরের মতো সংগঠনগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। যদিও ইসলামাবাদ সে অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে।
সম্প্রতি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘সিঁদুর’ নামক অভিযানে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সীমান্তে চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আমির হামজ়ার আহত হওয়া শুধু লশকর নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিমণ্ডলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এখন দেখার, এটি আদৌ একেবারে ‘অন্তর্ঘাত’ কি না, এবং লশকর কীভাবে সামলায় এই অভ্যন্তরীণ সংকট।
দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত