তালিবানের সঙ্গে ‘সন্ধি’!
সম্প্রতি এক অভাবনীয় মোড় নিয়েছে ভারত-আফগান সম্পর্ক। প্রথমবারের মতো তালিবান সরকারের ভারপ্রাপ্ত বিদেশমন্ত্রী মৌলবি আমির খান মুত্তাকির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ২০২১ সালে তালিবান দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর এটাই দুই দেশের মধ্যে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রথম প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। এই সংলাপ শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের জন্য নতুন চাপের ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই ফোনালাপ হয়েছে ১৫ মে, যার ঠিক আগেই ১০ মে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। জয়শঙ্কর টুইট করে জানান, পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা করে তালিবান সরকার যে ভূমিকা নিয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। আফগানদের সঙ্গে ভারতের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
পাকিস্তান যদিও এই সম্পর্ককে বিঘ্নিত করতে চেষ্টার কসরত রাখেনি। তালিবানের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচার চালিয়ে তারা দাবি করে, পহেলগাঁও হামলার পেছনে কাবুলের হাত রয়েছে এবং ভারত আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তালিবান প্রশাসন এই সমস্ত অভিযোগ সপাটে উড়িয়ে দিলে পাকিস্তানের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তালিবানের ‘কমিউনিকেশন ডিরেক্টর’ হাফিজ জ়িয়া আহমেদ জানান, ফোনালাপে আফগান নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য ভিসা সুবিধা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বন্দি প্রত্যর্পণ এবং ইরানের চাবাহার বন্দরের যৌথ ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
এই চাবাহার বন্দরই এখন কাবুলের বাণিজ্যের প্রধান আশ্রয়। পাকিস্তান হয়ে পণ্য আদানপ্রদান বন্ধ থাকায় আফগানিস্তান এখন ভারতের নিয়ন্ত্রিত চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে মুম্বই-গুজরাতের বন্দরে পৌঁছাতে আগ্রহী। বিশেষজ্ঞদের মতে, নয়াদিল্লি এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দিতেই পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রুট — ওয়াখান করিডর, যা আফগানিস্তান থেকে ভারত হয়ে মধ্য এশিয়ায় পৌঁছনোর পথ হতে পারত, সেটি বর্তমানে পাকিস্তান অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্যবহার করতে পারছে না ভারত।
সম্প্রতি ভারত তালিবানকে কনস্যুলার পরিষেবা চালুর অনুমতি দিয়েছে দিল্লি, মুম্বই ও হায়দরাবাদে। ফলে চিকিৎসা, পড়াশোনা বা বাণিজ্যের জন্য ভারতে আসা আফগানদের সুবিধা বেড়েছে। এতে দু’দেশের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হচ্ছে এবং শীঘ্রই দিল্লিতে আফগান দূতাবাস চালুর সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছে।
পাকিস্তানের ভয় আরও বেড়েছে কারণ তালিবান এখন তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর বলছে। এই অবস্থায় নয়াদিল্লি তালিবানকে স্বীকৃতি দিলে আফগানিস্তানের সঙ্গে ভারতের অস্ত্র ও বাণিজ্য চুক্তিও সম্ভবপর হয়ে উঠবে।
চিন ও রাশিয়া ইতিমধ্যে তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আফগানিস্তানে মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে, প্রকল্পে অর্থসাহায্য করে ভারতও ধীরে ধীরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করছে। পাকিস্তানকে চাপের মুখে ফেলতে তালিবানকে পাশে টানা নয়াদিল্লির এই নতুন কৌশল কূটনীতির ময়দানে নিঃসন্দেহে এক বড় দাও।
সরস্বতী নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ? বাস্তব কাজ এখনও অধরা