‘নরকেই ভাল!’— কটাক্ষের জবাবে জাভেদ আখতারের সাহসী জবাব

কটাক্ষের জবাবে জাভেদ আখতারের ! চিত্রনাট্যকার হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও রাজনীতির নানা প্রসঙ্গে তাঁর খোলামেলা মতামতের জন্যই এখন বেশি পরিচিত জাভেদ আখতার। নির্ভীক এবং স্পষ্ট বক্তব্য রাখার কারণে প্রায়শই…

May 18, 2025
1 min read

কটাক্ষের জবাবে জাভেদ আখতারের !

চিত্রনাট্যকার হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও রাজনীতির নানা প্রসঙ্গে তাঁর খোলামেলা মতামতের জন্যই এখন বেশি পরিচিত জাভেদ আখতার। নির্ভীক এবং স্পষ্ট বক্তব্য রাখার কারণে প্রায়শই চরমপন্থীদের নিশানায় পড়তে হয় তাঁকে। কেউ বলেন, “পাকিস্তানে চলে যান”, কেউ বলেন, “জাহান্নমে যান”— এতদিন ধরে এ সব শুনেই এসেছেন তিনি। তবে এবার জাভেদ আখতার নিজেই জানিয়ে দিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি কোথায় যেতে রাজি।

সম্প্রতি শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ সঞ্জয় রাউতের একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আখতার। মঞ্চে ছিলেন উদ্ধব ঠাকরে ও শারদ পাওয়ারও। সেখানেই জাভেদ তুলে ধরেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা। বলেন, “অনেক বছর ধরেই এই রকম আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছি। চরমপন্থা যেখানেই থাকুক না কেন, তার থেকে রেহাই নেই। এক পক্ষ বলে আমি ‘কাফির’, আমাকে নরকে যেতে হবে। অন্য পক্ষ বলে আমি ‘জিহাদি’, তাই পাকিস্তানে চলে যাওয়া উচিত। আমি বলি, যদি এই দুটো জায়গার মধ্যেই বেছে নিতে হয়, তাহলে আমি নরকেই যেতে রাজি।”

এই মন্তব্যের মাধ্যমে একদিকে যেমন তিনি কটাক্ষকারীদের প্রতি তীব্র ব্যঙ্গ ছুড়ে দেন, অন্যদিকে সাহসিকতার সঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এমনকি হাস্যরসের ছলে বলেন, “আসলে যখন কেউ কিছু বলে না, তখনই ভয় পাই— ভাবি, নিশ্চয় কিছু একটা ভুল করছি।”

তবে জাভেদ আখতার কেবল আক্রমণের শিকারই হননি, পেয়েছেন অসংখ্য মানুষের ভালোবাসাও। মঞ্চেই তিনি অকপটে স্বীকার করেন, “অনেকেই আমার বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তাঁরা আমাকে অনুপ্রেরণা জোগান, সাহস দেন। তাই তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। তবে এটাও সত্যি— দুই চরমপন্থী দিক থেকেই আক্রমণ আসে।”

জাভেদ আখতার সম্প্রতি পাকিস্তান বিরোধী অবস্থানেও স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছেন। সীমান্তের সন্ত্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “যথেষ্ট হয়েছে। এখন কঠোর পদক্ষেপ দরকার। শুধু দু-চারটে বোমা ফেলে কিছু হবে না। সরকারকে কড়া সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানি শিল্পীদের ভারতে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “এ দেশে ওদের যতটা সম্মান দেওয়া হয়, ভারতীয় শিল্পীদের ও দেশে ততটা কখনওই দেওয়া হয় না।”

সোজাসাপটা ভাষায় সত্য বলার এই অভ্যাসই জাভেদ আখতারকে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই যে নিজের বিবেক ও যুক্তির ভিত্তিতে কথা বলা যায়— তা তিনি বারবার প্রমাণ করে চলেছেন।

সরস্বতী নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা কাগজেই সীমাবদ্ধ? বাস্তব কাজ এখনও অধরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *