সোনু নিগমের স্বস্তির নিঃশ্বাস, কড়া পদক্ষেপ নয় এখনই, সশরীরে হাজিরাও নয় জরুরি

সোনু নিগমের স্বস্তির নিঃশ্বাস জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগমের বিরুদ্ধে কর্নাটকে চলতে থাকা বিতর্কে কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইল বৃহস্পতিবার। কর্নাটক হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত সোনুর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া…

May 16, 2025
0 min read

সোনু নিগমের স্বস্তির নিঃশ্বাস

জনপ্রিয় গায়ক সোনু নিগমের বিরুদ্ধে কর্নাটকে চলতে থাকা বিতর্কে কিছুটা স্বস্তির হাওয়া বইল বৃহস্পতিবার। কর্নাটক হাই কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত সোনুর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে, গায়কের আবেদন মেনে তাঁর বয়ান ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমেই রেকর্ড করা যাবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত মাসে বেঙ্গালুরুর ভার্গো নগরের একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সোনু নিগম। সেখানে এক যুবক তাঁকে কন্নড় গান গাইতে অনুরোধ করলে তিনি প্রকাশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করেন। সোনুর সোজাসাপ্টা জবাব ছিল, “পহেলগাঁওয়ে যা ঘটেছিল, তার জন্যই দায়ী এমন আচরণ। কে মঞ্চে রয়েছে সেটা না দেখে এমন দাবি জানানোই সমস্যার মূল।” সেই সুরে গায়ক আরও জানান, “আমি কর্নাটকবাসীকে ভালবাসি, আপনাদের সবার জন্য আমার সম্মান রয়েছে।”

বিতর্কের আগুনে ঘি ঢালে রাজনৈতিক সংগঠন

এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় বিতর্ক। ‘কর্নাটক রক্ষা বেদিকে’ নামে একটি স্থানীয় কন্নড়পন্থী সংগঠন অভিযোগ দায়ের করে বেঙ্গালুরু শহর জেলা পুলিশের কাছে। অভিযোগ, সোনুর বক্তব্য কন্নড় ভাষাভাষী মানুষদের আবেগে আঘাত করেছে। এমনকী এই ঘটনার জেরে ‘কুলাডাল্লি কিল্যাভুডো’ নামে একটি কন্নড় সিনেমার কাজ থেকেও বাদ পড়তে হয় তাঁকে।

সোনুর আইনজীবীর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ

বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানিতে সোনুর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী ধনঞ্জয় বিদ্যাপতি। তিনি দাবি করেন, “পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছিল। সোনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃতীয় পক্ষ, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি আরও বলেন, “একজন শিল্পীর বক্তব্য তার প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত, যা এখানে করা হয়নি।”

আদালতের রায়: ভিডিয়ো কনফারেন্সেই বয়ান, প্রয়োজনে তদন্তকারী যেতে পারেন

এই পরিস্থিতিতে কর্নাটক হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সোনুকে এখনই সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। তবে যদি তদন্তকারী আধিকারিক মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে সোনুর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন আছে, তাহলে তিনি গায়কের কাছে গিয়ে কথা বলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খরচ বহন করতে হবে সোনুকেই।

আপাতত সোনুর পক্ষে এটিই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়— আদালত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও তড়িঘড়ি আইনি পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে গায়ক নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ পাচ্ছেন, পাশাপাশি জনসমক্ষে নিজের দিকটা ব্যাখ্যা করার জায়গাও তৈরি হচ্ছে।

শেষ কথা

একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে মুহূর্তের আবেগে বলা কিছু কথা কখনও কখনও কতটা বড় বিতর্কে পরিণত হতে পারে, সোনু নিগমের ঘটনা সেটারই প্রমাণ। তবে কর্নাটক হাই কোর্টের রায় এই মুহূর্তে গায়ককে যেমন স্বস্তি দিয়েছে, তেমনই শিল্পীর মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক সংবেদনশীলতার ভারসাম্য নিয়েও নতুন করে আলোচনার দরজা খুলেছে।

বিরাটের বিদায়ের পর অনুষ্কার আবেগ, ব্যথিত মাইকেল ভন ও ক্রিকেটের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *