তিন মাসের ‘বিরতি’ চিন-আমেরিকা শুল্কযুদ্ধে, জেনেভা বৈঠকে মিলল আপসের রসদ

তিন মাসের ‘বিরতি’ চিন-আমেরিকা শুল্কযুদ্ধে! দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে অবশেষে খানিকটা শান্তির হাওয়া বইল বিশ্বের দুই বড় অর্থনৈতিক শক্তি—চিন ও আমেরিকার মধ্যে। চলতি ‘শুল্কযুদ্ধ’-এ তিন মাসের জন্য সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে…

May 13, 2025
1 min read

তিন মাসের ‘বিরতি’ চিন-আমেরিকা শুল্কযুদ্ধে!

দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে অবশেষে খানিকটা শান্তির হাওয়া বইল বিশ্বের দুই বড় অর্থনৈতিক শক্তি—চিন ও আমেরিকার মধ্যে। চলতি ‘শুল্কযুদ্ধ’-এ তিন মাসের জন্য সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশই। গত সপ্তাহে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরেই এই ঘোষণা করা হয়।

সোমবার মার্কিন রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত জানিয়েছেন, চিন ও আমেরিকা পরস্পরের পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক ১১৫ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, আগামী ৯০ দিনের জন্য শুল্কের এই বাড়তি চাপ স্থগিত রাখা হবে।

শুরুর দিকে আগুনে ঘি

শুল্কযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে। অভিযোগ ছিল, চিন থেকে বেআইনি ভাবে আমেরিকায় প্রবেশ করছে নিষিদ্ধ ব্যথানাশক ওষুধ ফেন্টানাইল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে চিন, কানাডা ও মেক্সিকোর পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। পরে এই তালিকায় যুক্ত হয় ভারত-সহ আরও কিছু দেশ। কিন্তু চিনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ ছিল সবচেয়ে কড়া। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বেজিংও বসে থাকেনি। তারাও মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক বসিয়ে দেয়।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, শেষ পর্যন্ত চিনা পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক দাঁড়ায় ১৪৫ শতাংশ এবং মার্কিন পণ্যের উপর চিনের শুল্ক পৌঁছে যায় ১২৫ শতাংশে। স্বাভাবিক ভাবেই এই দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়তে শুরু করে আমেরিকার শেয়ার বাজার এবং সাধারণ ব্যবসায়িক পরিবেশে।

জেনেভায় আলোচনায় আশার আলো

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই গত সপ্তাহান্তে জেনেভায় মুখোমুখি বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। দু’দিন ধরে চলা আলোচনার পর রোববার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছন তাঁরা। আপাতত তিন মাসের জন্য শান্তি স্থাপন করে শুল্কহার হ্রাস করা হবে। এর ফলে, এখন চিনা পণ্যের উপর আমেরিকায় কার্যকর থাকবে মাত্র ৩০ শতাংশ শুল্ক, আর মার্কিন পণ্যের উপর চিনে লাগবে ১০ শতাংশ শুল্ক।

এই সিদ্ধান্তের পরে পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, অবশেষে যুক্তি ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয়েছে দুই দেশই। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ বিরোধের মুখে পড়ে এই সাময়িক সমঝোতা আসা খুবই স্বাভাবিক।

ভবিষ্যৎ কী?

এখন প্রশ্ন—এই তিন মাসের ‘যুদ্ধবিরতি’ কী দীর্ঘস্থায়ী কোনও সমঝোতার দিকে এগোবে? নাকি ফের পুরনো পথে ফিরে যাবে দুই দেশ?

ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, চিনা পণ্যের উপর থেকে পুরো শুল্ক উঠিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং ‘অনেকটাই কমানো’ হবে, তবে কিছুটা চাপ থেকেই যাবে। এই বক্তব্য থেকেই স্পষ্ট, পুরোপুরি শান্তি আপাতত সম্ভব নয়।

তবে ব্যবসায়িক পরিসরে এই ঘোষণা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে সাহায্য করেছে অনেকেরই। দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্যপথ পুনঃস্থাপন হলে, তার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতেও।

বিরাট কোহলির বিদায়: এক অধ্যায়ের সমাপ্তি, রেখে গেলেন প্রশ্নের রেশ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *