তিনটি ভ্রান্ত ধারণা গুঁড়িয়ে দিল ভারত!
পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর ভারত যে প্রতিরোধী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা শুধু পাকিস্তান নয়, গোটা বিশ্বের চোখে ভারতের কূটনৈতিক, সামরিক এবং কৌশলগত অবস্থানকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সংঘর্ষে ভারত এমন তিনটি প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা ভেঙে দিয়েছে, যা এতদিন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।
প্রথম মিথ: “পাকিস্তানকে ছুঁলেই পরমাণু যুদ্ধ” — এতদিন একটা প্রচলিত ভয় ছিল, ভারত যদি পাকিস্তানের মাটিতে হামলা চালায়, তবে তা সরাসরি পরমাণু যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। কিন্তু ভারতের সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেল, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের হুমকি দিলেও, বাস্তবে তারা তা ব্যবহারের সাহস দেখাতে পারেনি। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ চলাকালীনই পাক সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী পরমাণু বিষয়ক আধিকারিকদের সঙ্গে কোনও বৈঠক করেননি— যা সেই ভয়ের মিথ্যাচারকে স্পষ্ট করে দেয়। ভারত পুরো বিশ্বের সামনে দেখিয়ে দিল যে, এ ধরনের হুমকি দিয়ে ভারতকে দমানো যাবে না।
দ্বিতীয় মিথ: “পাকিস্তানকে আঘাত করলেই চিন আক্রমণ করবে” — দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা ছিল, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনও সামরিক পদক্ষেপ নিলে ভারতকে একইসঙ্গে চিনের সঙ্গেও যুদ্ধে জড়াতে হতে পারে। তবে ইতিহাস বলছে, কার্গিল (১৯৯৯), সার্জিক্যাল স্ট্রাইক (২০১৬), বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক (২০১৯) — কোথাওই চিন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেনি। এবারের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ঢুকে ছ’টি বিমানঘাঁটি এবং একাধিক রাডার বেস ধ্বংস করেছে। চিন শুধু কৌশলগত বিবৃতি দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে, এই ভয়ও যে ভিত্তিহীন, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
তৃতীয় মিথ: “চিনা প্রযুক্তি অজেয়” — পাকিস্তান মূলত চিনা প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে সামরিক শক্তি গড়ে তুলেছিল। কিন্তু এই সংঘর্ষে দেখা গেল, চিনা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্রের সামনে কার্যত অকার্যকর। এমনকি, চিনা ড্রোন ব্যবহার করে হামলার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে চিনা অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এই অভিযানের বিশেষত্ব কী ছিল? ভারত শুরু থেকেই স্পষ্ট করেছিল, এই প্রতিঘাত ‘সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং উসকানিমুক্ত’। পাকিস্তানের কোনও সামরিক পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়নি। শুধুমাত্র জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। ভারতীয় সেনার ডিজিএমও-কে যখন পাকিস্তানের তরফে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়, ভারত সঙ্গে সঙ্গে তা মেনে নেয়— এই পরিণত অবস্থান গোটা বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তি আরও দৃঢ় করেছে।
সব মিলিয়ে, এই অপারেশনের মাধ্যমে ভারত একটি নতুন সমরতত্ত্বের পরিচয় দিয়েছে— যে তত্ত্ব আত্মরক্ষার পাশাপাশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সক্রিয় প্রতিরোধের কথা বলে। শুধু দক্ষিণ এশিয়া নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও এই কৌশলগত বদল ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলছে।