যাত্রিবাহী বিমানকে ঢাল বানাচ্ছে পাকিস্তান!
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই উদ্বেগজনক অভিযোগ করল ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, যুদ্ধে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার জন্য যাত্রিবাহী অসামরিক বিমানকে ‘মানব ঢাল’ বা শিখণ্ডী হিসাবে ব্যবহার করছে পাকিস্তান। শুধু তা-ই নয়, একের পর এক ব্যর্থ হামলার পরেও ইসলামাবাদ নিজের আকাশসীমা বন্ধ করেনি, যা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তার পরিপন্থী।
শুক্রবার সন্ধ্যায় বিদেশ মন্ত্রক ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ তুলে ধরেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী, কর্নেল সোফিয়া কুরেশি এবং উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিংহ। কর্নেল কুরেশি জানান, ৭ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে এক ব্যর্থ হামলা চালায়। অথচ হামলার পরেও তারা তাদের অসামরিক আকাশসীমা খোলা রাখে।
এই প্রসঙ্গে কর্নেল কুরেশি বলেন, “ফ্লাইটরেডার২৪” অ্যাপে দেখা যাচ্ছে, পাকিস্তানের বেসামরিক বিমান হামলার সময়ও আকাশে ওড়াউড়ি করেছে। এর অর্থ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই সাধারণ যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ভারতের কড়া অভিযোগ, এই পদক্ষেপ ‘চূড়ান্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন’ এবং আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
সোফিয়া জানান, ভারতের তরফে সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলগুলিতে তখনই আকাশসীমা বন্ধ করা হয়, যাতে কোনও অসামরিক যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত না হন। তবে পাকিস্তান সেই ধরনের কোনও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বরং আকাশসীমায় সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের উপস্থিতিকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করে ভারতের পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে।
বিদেশসচিব মিস্রী জানান, “আমরা সংযম দেখিয়েছি। পাকিস্তানের এই অমানবিক কৌশলের পরেও ভারত তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ নেয়নি, কারণ আমাদের কাছে যাত্রীদের নিরাপত্তা আগে।”
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে আরও জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই পাকিস্তান লাগাতার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা চালিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, পাঞ্জাব এবং রাজস্থানের সীমান্তবর্তী এলাকায় অন্তত ৩৬টি স্থানে প্রায় ৩০০-৪০০ বার আক্রমণের চেষ্টা চালায় তারা। তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দক্ষতায় অধিকাংশ হামলাই ব্যর্থ হয়। সেনাবাহিনীর দাবি, বহু ড্রোন মাঝ আকাশে গুলি করে নামানো হয়েছে।
ভারতের আরও অভিযোগ, শুধু আকাশপথেই নয়, নিয়ন্ত্রণরেখাতেও লাগাতার গোলাবর্ষণ করছে পাকিস্তান সেনা। সীমান্তের দু’পারে থাকা সাধারণ মানুষ ও যাত্রীদের জীবন নিয়ে এই ধরনের ‘খেলা’ আন্তর্জাতিক মহলের নজরে আনতে চায় নয়াদিল্লি।
বিদেশ মন্ত্রকের এক কর্তা বলেন, “এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক নিয়ম-কানুন মেনে চলা প্রতিটি দেশের কর্তব্য। পাকিস্তান যা করছে, তা শুধু অসভ্য নয়, মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।”
এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক মহল একযোগে শান্তির বার্তা দিলেও, সীমান্তে নজরদারি ও পাল্টা প্রস্তুতি জোরদার করছে নয়াদিল্লি।
ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে মিথ্যাচারের তৎপরতা: ভুয়ো খবরকে হাতিয়ার করছে পাকিস্তান