পাকিস্তানের আকাশপথ বন্ধ!
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার তার প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভারত পাঁচটি কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার পর পাকিস্তানও পাল্টা জবাব দেয়—এর মধ্যে অন্যতম ছিল ভারতের জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া। আর এই সিদ্ধান্তই বড়সড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াল ভারতের বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর জন্য।
বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া-র জন্য এই নিষেধাজ্ঞা ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে চলেছে। সংস্থার প্রাথমিক হিসাব বলছে, যদি আগামী এক বছর পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকে, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫০৫১ কোটি টাকা।
খরচ বাড়ছে প্রতি সপ্তাহেই
পাকিস্তানের আকাশপথ ব্যবহার না করতে পারার কারণে উত্তর ভারতের শহরগুলি থেকে আন্তর্জাতিক উড়ান চালাতে গিয়ে খরচ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, শুধু সাপ্তাহিক খরচই বাড়তে পারে ৭৭ কোটি টাকা পর্যন্ত! মাসের হিসেবে যা দাঁড়ায় প্রায় ৩০৬ কোটি টাকা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, উত্তর ভারতের শহরগুলি—যেমন দিল্লি, অমৃতসর বা চণ্ডীগড় থেকে সপ্তাহে প্রায় ৮০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক উড়ান বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে। এই বিমানের বড় একটা অংশ যায় উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ায়। এখন সেগুলিকে বিকল্প রুটে ঘুরিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও জ্বালানি দুই-ই বেশি লাগছে।
অতিরিক্ত সময়, অতিরিক্ত খরচ
পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ হওয়ার আগে উত্তর আমেরিকাগামী উড়ানগুলিতে সাধারণত সময় লাগত ১৬ ঘণ্টা। এখন সেই সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাড়ে ১৭ ঘণ্টা। আর এই অতিরিক্ত দেড় ঘণ্টা উড়ানের জন্য খরচ হচ্ছে প্রায় ২৯ লক্ষ টাকা।
ইউরোপগামী বিমানগুলিতেও সময় বাড়ছে। আগে যেখানে ৯ ঘণ্টা সময় লাগত, এখন সময় লাগছে সাড়ে ১০ ঘণ্টার মতো। এতে খরচ বাড়ছে প্রতি ফ্লাইটে সাড়ে ২২ লক্ষ টাকা। পশ্চিম এশিয়ায় যাওয়া বিমানে গড়ে ৪৫ মিনিট সময় বাড়ছে এবং প্রতি উড়ানে খরচ বাড়ছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা।
কূটনৈতিক উত্তেজনার খেসারত
এই গোটা পরিস্থিতির সূত্রপাত ২২ জুলাই পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড থেকে। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সৌদি আরব সফরে ছিলেন। দেশে ফিরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন। পাল্টা জবাবে পাকিস্তানও ২৪ জুলাই আটটি নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে আকাশসীমা বন্ধ অন্যতম।
উপসংহার
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহনে সময় এবং খরচ—দু’দিক থেকেই ধাক্কা খাচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া ও অন্যান্য ভারতীয় সংস্থাগুলি। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কেবল সংস্থাগুলোরই নয়, যাত্রীদের উপরেও তার প্রভাব পড়বে—টিকিটের দাম বাড়তে পারে, উড়ানের সময় দীর্ঘায়িত হবে।
সুতরাং, ভারত-পাক কূটনীতির এই সংঘর্ষ কেবল মাটির সীমানা নয়, ছুঁয়ে গেল আকাশসীমাও। আর সেই আকাশে এখন শুধুই চিন্তার ঘনঘটা।
গরমে বাহুমূলের বিশেষ যত্ন: দুর্গন্ধ ও তেলচিটে ভাব দূর করার ৫ সহজ ধাপ