চিনের সমর্থন পেয়ে সাহস ফিরে পেল পাকিস্তান?
পহেলগাঁওয়ের বৈসরন উপত্যকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৬ জন। অধিকাংশই ছিলেন নিরীহ পর্যটক। এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করেছে ভারত, আর তৎপরতার সঙ্গে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ঠিক এমন সময়ে পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা দিল চিন। ইসলামাবাদের মনোবল ফেরাতে যেন অক্সিজেন জোগাল বেজিং।
ফোন কূটনীতি ও চিনের স্পষ্ট বার্তা
রবিবার, চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই সরাসরি ফোন করেন পাক বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারকে। ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করে জানান, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের পাকিস্তানি দাবিকে সম্পূর্ণ সমর্থন করছে চিন। শুধু তাই নয়, ওয়াং ই আরও বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থানকে তারা সম্মান জানায় এবং চিন বরাবরই ইসলামাবাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।
ভারতের বিরুদ্ধে পরোক্ষ বার্তা
পাকিস্তান যখন পহেলগাঁও হামলার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করছে, তখন ভারতের পদক্ষেপগুলিকে আক্রমণ হিসেবে দেখছে তারা। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত, পাক নাগরিকদের ভিসা বাতিল— দিল্লির এই সব পদক্ষেপে পাকিস্তান আরও চাপে পড়েছিল। পাল্টা দিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেয় ইসলামাবাদ। এ অবস্থায় চিনের প্রকাশ্য সমর্থন তাদের মনোবল ফেরাল বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকেরা।
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইম্স’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেজিং ভারতের গোয়েন্দা ব্যর্থতার দিকেও ইঙ্গিত দিয়েছে এবং দু’দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি না ঘটানোর জন্য উভয়পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সংঘাতের আবহে নতুন সমীকরণ
উল্লেখ্য, পহেলগাঁও হামলার পরে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে ভারতের পাশে দাঁড়ায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেন। এতে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়েছিল। কিন্তু এবার চিনের সরাসরি সমর্থন পেয়ে নতুন করে মেরুদণ্ড সোজা করার সুযোগ পেয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তান শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এই হামলার দায় তাদের নয়। বরং ভারত রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই পাকিস্তানকে দোষারোপ করছে। সেই দাবিকে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরার চেষ্টায় এখন বাড়তি শক্তি যোগাল চিনের সমর্থন।
আলোচনার ডাক, কিন্তু উত্তেজনার মেঘ
চিনের বিদেশমন্ত্রী অবশ্য দু’দেশকেই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, কাশ্মীর এবং সংলগ্ন এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হলে, লাভ কারও হবে না— বরং দুই দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে বাস্তব বলছে, পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে ফের একবার চরম উত্তেজনার ছায়া। এই উত্তপ্ত আবহে চিনের অবস্থান যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।
একটিমাত্র ছবিতে অভিনয়! কেন অভিনয় ছাড়লেন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে মেঘা?