যুদ্ধের হুঁশিয়ারির মাঝে ‘কৃষির কবর’!
পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার পর বদলে গেল উপমহাদেশের জলনীতির দৃশ্যপট। প্রতিক্রিয়ায় ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা করতেই দিশেহারা পাকিস্তান। পরিস্থিতি এমনই দাঁড়াল যে, চোলিস্তান সেচখাল প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল ইসলামাবাদ। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় জল অবরোধের আঁচ পড়তেই কৃষিভিত্তিক পাকিস্তান কার্যত ‘কৃষির কবরে’ দাঁড়িয়ে পড়ল।
২৪ এপ্রিল পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার ঘোষণা করে, আপাতত বন্ধ থাকবে চোলিস্তান প্রকল্পের নির্মাণকাজ। যে কাজ শুরু হয়েছিল মাত্র ফেব্রুয়ারিতে, পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের উপস্থিতিতে। মরিয়ম আবার শাহবাজের ভাইঝি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সাধারণ স্বার্থ পরিষদ’ বা কাউন্সিল অফ কমন ইন্টারেস্টস (CCI) একমত না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্প স্থগিত থাকবে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে — প্রকল্পটি হয়তো আর শুরুই হবে না। কারণ, সিন্ধু প্রদেশের দল পিপিপি প্রথম দিন থেকেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরব। তাদের আশঙ্কা, পঞ্জাবের কৃষকরাই অধিকাংশ জল পেয়ে যাবে, আর বঞ্চিত হবে সিন্ধু অববাহিকার মানুষজন।
বিষয়টি নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন পিপিপির চেয়ারম্যান বিলাবল ভুট্টো জারদারি। পরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, পরস্পর সম্মতিতেই আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হচ্ছে।
২০১৩ সালে ইসলামাবাদের ‘সবুজ পাকিস্তান’ প্রকল্পের আওতায় চোলিস্তানে ছয়টি খাল কাটার পরিকল্পনা হয়েছিল। সিন্ধু নদী এবং তার শাখা শতদ্রু নদী থেকে জল টেনে পঞ্জাব, সিন্ধু এবং বালোচিস্তান — এই তিন প্রদেশে কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্য ছিল। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন ধূলিসাৎ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করায় শাহবাজ শরিফ যেন ‘অজুহাত’ পেয়ে গেলেন। কারণ, জল পাওয়া যদি অনিশ্চিত হয়, তবে খাল কেটে আর লাভ কী? পাশাপাশি, রাজনৈতিক শরিকদের ক্ষোভও প্রশমিত করা গেল।
তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, সিন্ধুর জল বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তান চরম জলসঙ্কটে পড়বে। সেই আশঙ্কা থেকেই ইসলামাবাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছে — সিন্ধুর জল আটকালে তা যুদ্ধ ঘোষণার সমান।
ভারতও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাস বন্ধ না হলে সিন্ধু চুক্তি স্থগিতই থাকবে। জলশক্তি মন্ত্রণালয়ের তরফে পাকিস্তানকে চিঠি পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিতও করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে পণ্ডিত নেহরু ও জেনারেল আয়ুব খানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল এই চুক্তি। দীর্ঘ ন’বছরের আলোচনার পর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে সিন্ধু ও তার শাখানদীগুলির জল ব্যবহারের নিয়ম ঠিক করা হয়। তবে আজ, সেই চুক্তির ভবিষ্যৎ ঘন কালো মেঘে ঢেকে গেছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে সিন্ধুর জল হতে পারে ভবিষ্যতের উত্তপ্ত সংঘাতের কারণ। প্রশ্ন উঠছে — তবে কি এক ফোঁটা জল ঘিরেই আসছে আরেক যুদ্ধ?
পহেলগাঁও হামলা: বলিউডের তারকাদের ক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র বার্তা