চিনের ভয়ঙ্কর হাইড্রোজেন বোমা!
বিশ্ব রাজনীতির উত্তপ্ত পরিমণ্ডলে চিন এবার যেন আরও এক ধাক্কা দিল। আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের মাঝেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতা জাহির করতে অতি শক্তিশালী এক অ-পরমাণু হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষায় সফল হল বেজিং। বিজ্ঞানীদের দাবি, এটি প্রথাগত টিএনটি বিস্ফোরণের চেয়ে অন্তত ১৫ গুণ বেশি শক্তিশালী!
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় মাত্র দু’কিলো ওজনের বোমাটি থেকে তৈরি হয় এক বিশাল সাদা আগুনের গোলা। তা স্থায়ী ছিল দুই সেকেন্ডেরও বেশি সময়। সেই অল্প সময়েই ঘটেছে শক্তির প্রচণ্ড নির্গমন। বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছে ৪২৮.৪৩ কিলোপাস্কাল পর্যন্ত চাপে পৌঁছনো ভয়াবহ ধ্বংসসৃষ্টিকারী তরঙ্গ।
এই বোমার নেপথ্যে রয়েছে চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং কর্পোরেশনের ৭০৫ রিসার্চ ইনস্টিটিউট। এত দিন যারা জলের তলায় যুদ্ধাস্ত্র তৈরিতে পারদর্শী ছিল, এবার তারা সফল হল সম্পূর্ণ নতুন এক প্রকল্পে।
এতে ব্যবহার করা হয়েছে ম্যাগনেশিয়াম হাইড্রাইড, যা উত্তপ্ত হলে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন নির্গত করে এবং মুহূর্তে তা জ্বলে ওঠে, তৈরি করে ভয়ঙ্কর আগুনের ঝড়। বিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রিত হলেও তার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা বিস্ময়কর—একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার মতো সামর্থ্য রাখে এটি।
সাবেক সেনা বিশ্লেষকদের মতে, চিন এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎকেন্দ্র কিংবা শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় তাণ্ডব চালাতে। একইসঙ্গে, যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে যাওয়ার সময় বা প্রতিরক্ষার সময় এটি হয়ে উঠতে পারে কার্যকর মারণাস্ত্র।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, খুব শীঘ্রই এই হাইড্রোজেন বোমা যুক্ত হবে চিনের স্থল, বায়ু, নৌ এবং রকেট বাহিনীর অস্ত্রাগারে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে চিন সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে গত কয়েক বছরে বাজেট বেড়েছে কয়েকগুণ। চলতি বছরেই প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে ৭.২ শতাংশ, যা পৌঁছেছে ২৪ হাজার ৯০০ কোটি মার্কিন ডলারে।
এর পেছনে রয়েছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তাও। তাইওয়ানকে ঘিরে আমেরিকা ও চিনের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। শি জিনপিংয়ের সরকার বারবার জানিয়েছে, তাইওয়ান তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর আমেরিকা এর বিরোধিতা করেই যাচ্ছে—দিচ্ছে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা। ফলে চিনের এই বোমা পরীক্ষা সেই বিরোধের মাঝে এক স্পষ্ট বার্তা: “চ্যালেঞ্জ নিও, কিন্তু তার দাম দিতে হবে!”
বিশ্বজুড়ে এই পরীক্ষার পর রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ চিন সাগর থেকে ইন্দো-প্রশান্ত অঞ্চল—সব জায়গায় দেশগুলি চিন্তিত। কারণ, একবার এই অস্ত্র চালু হলে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বদলে যেতে পারে ভূরাজনীতির মানচিত্র।
চিন ও আমেরিকার মধ্যে চলা এই শক্তির লড়াইয়ে, আন্তর্জাতিক মহল এখন অপেক্ষায়—পরবর্তী পদক্ষেপটি কার?
সামনেই কি সামান্থার বিয়ে? চর্চিত প্রেমিক রাজ নাদিমরুর সঙ্গে তিরুপতির মন্দিরে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী!