যোগ্য-অযোগ্য তালিকা না আসা পর্যন্ত কলকাতা ও দিল্লিতে চলবে অবস্থান!
ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সাময়িক আশার আলো দেখলেও, এখনই রাস্তায় আন্দোলন থামাচ্ছেন না চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ এবং ওএমআর শিট সংক্রান্ত দাবিতে তাঁরা একযোগে কলকাতা ও দিল্লিতে অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে টানা তিন ঘণ্টার বৈঠক হলেও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৈঠকে আশার ইঙ্গিত মিললেও, তাঁদের দাবি যত দিন না মানা হচ্ছে, তত দিন তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন।
👉 কী দাবি আন্দোলনকারীদের?
চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল দাবি—
- অবিলম্বে যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ
- এসএসসি পরীক্ষার ২২ লক্ষ ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ ওয়েবসাইটে প্রকাশ
এ দাবি না মেটা পর্যন্ত, তাঁদের অবস্থান চলবে বলেই জানিয়েছেন সংগঠনের তরফে।
🎯 আন্দোলনের নতুন রূপরেখা:
এসএসসি ভবনের সামনে চলা লাগাতার অবস্থান আপাতত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনের গতি থামছে না।
- কলকাতায়: শনিবার থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে নতুন করে অবস্থানে বসছেন আন্দোলনকারীরা।
- দিল্লিতে: ১৬ এপ্রিল থেকে রাজধানীর যন্তরমন্তরে শুরু হবে অবস্থান, যেখানে অংশ নেবেন প্রায় ১৫০ জন চাকরিহারা শিক্ষক।
📅 কী বললেন শিক্ষামন্ত্রী?
বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, ২১ এপ্রিল প্রকাশ পেতে পারে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা। তবে সব ওএমআর শিটের মিরর ইমেজ আপলোড সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘‘যা যা সিবিআইয়ের হাতে রয়েছে, সেগুলিই প্রকাশ করা হবে।’’ অর্থাৎ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সরকার তালিকা প্রকাশে পদক্ষেপ নিচ্ছে।
🗣️ আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া:
যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষাকর্মী অধিকার মঞ্চের আহ্বায়ক সঙ্গীতা সাহা বলেন,
“আমাদের দাবি যত দিন না পূর্ণ হচ্ছে, তত দিন আমরা অবস্থান চালিয়ে যাব। শুধু কলকাতায় নয়, আমরা দিল্লিতেও আওয়াজ তুলব।”
⚖️ লড়াই কিন্তু শেষ নয়:
চাকরিহারা শিক্ষকরা এখন ‘আশা’র অবস্থানে থাকলেও, তাঁদের পূর্ণ আস্থা আসেনি সরকারের প্রতিশ্রুতিতে। বরং তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ঘোষণার পাশাপাশি ফল দেখতে চান। কারণ অতীতের অনেক প্রতিশ্রুতিই পরে মিথ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
এই মুহূর্তে আন্দোলনকারীরা সরকারকে সময় দিচ্ছেন, কিন্তু চোখ রাখছেন ফলাফলের দিকেও। ২১ এপ্রিলের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার প্রার্থীর দৃষ্টি। সেই দিনেই বোঝা যাবে—আশার আলো সত্যি পথ দেখাবে, নাকি আবারও বিক্ষোভের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে।
চুম্বন নয়, কবিতার ছোঁয়ায় প্রেম ফুটল শ্রাবন্তীর খোলা পিঠে!