নববর্ষে নতুন ছন্দে তৃণমূল!
বাংলা নববর্ষে তৃণমূল কংগ্রেস শুরু করছে এক নতুন দিশার কর্মসূচি। লক্ষ্য একটাই—ভোটার তালিকা থেকে ‘ভূত’ নাম মুছে ফেলা। আর এই কাজের জন্য তারা আবারও আস্থা রাখছে তাদের বহুদিনের প্রযুক্তিগত সঙ্গী, পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর উপর।
গত ২৭ মার্চ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “সবাইকে নিয়েই চলতে হবে। আমার আইপ্যাক।” এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, দলের ভেতরের বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও মমতা এবার পুরোপুরি ভরসা করছেন আইপ্যাকের উপর।
এরই জেরেই ১৫ মার্চ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রায় ৪,৫০০ নেতার সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বলেন, “ভোটার তালিকা যাচাই শুধু এককালীন কাজ নয়, এটা সারা বছরের কর্মসূচি।” সেই নির্দেশ মেনেই এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে এই বড়সড় ‘ভোটার তালিকা সংশোধন অভিযান’, যা চলবে আগামী বিধানসভা ভোট পর্যন্ত।
এই কর্মসূচিতে প্রযুক্তি আর সংগঠনের মেলবন্ধন দেখা যাচ্ছে স্পষ্টভাবে। দলের তরফে তৈরি হয়েছে একটি নতুন অ্যাপ, যার মাধ্যমে রিয়েল টাইমে ভোটার তথ্য যাচাই, জিও ট্যাগ আপডেট-এর সুবিধা থাকবে। এই অ্যাপ ব্যবহার করে বুথ স্তরের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।
এই প্রকল্পে একাধিক স্তরে নিয়োগ করা হয়েছে—
- পঞ্চায়েত ইলেক্টোরাল রোল সুপারভাইজার
- ওয়ার্ড ইলেক্টোরাল রোল ভেরিফিকেশন সুপারভাইজার
- ব্লক এবং টাউন সুপারভাইজার
তাঁদের প্রশিক্ষণ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে, যেখানে আইপ্যাকের প্রতিনিধিরাও অংশ নিচ্ছেন। এমনকি কিছু এলাকায় স্থানীয় বিধায়করাও প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছেন।
এই পুরো কর্মকাণ্ডের মধ্যে এক ঝকঝকে, পরিকল্পিত কর্পোরেট ধাঁচ দেখা যাচ্ছে। যা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংগঠন পরিচালনার নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দেয়।
তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দল যে একাধিক অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, তা অজানা নয়। কিছুদিন আগেই মদন মিত্র প্রকাশ্যে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে ‘তোলাবাজি’র অভিযোগ আনেন, পরে দলের নির্দেশে তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও আইপ্যাককে ‘অসৎ’ বলেছিলেন, যদিও তিনি ক্ষমা চাননি।
এসব বিতর্কের মধ্যেই মমতা বুঝে গিয়েছেন—২০২৬-এর ভোটের আগে নতুন সংস্থাকে এনে সময় নষ্ট করা নয়, বরং অভিজ্ঞ সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত এবং নিখুঁত কাজটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। আইপ্যাক ২০১৯ সাল থেকেই রাজ্যের সঙ্গে কাজ করছে, তাদের অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা থাকায় এবারও তাদের উপরেই ভরসা রাখলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
তৃণমূলের এই উদ্যোগ শুধু একটি ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ নয়, বরং তা আগামী নির্বাচনের মঞ্চ তৈরির প্রথম পদক্ষেপ। নববর্ষে তাই দল নতুন উদ্যমে এক নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে—ভূত তাড়াতে এবার প্রযুক্তিই তাদের প্রধান অস্ত্র।
চিন বাদে সব দেশের উপর শুল্কনীতি স্থগিত, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিশ্ববাজারে ফিরল স্বস্তি