ছাত্রভোট নিয়ে কী ভাবছে রাজ্য!
রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন থমকে রয়েছে। এই বিষয়ে অতীতে একাধিক প্রশ্ন উঠলেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। এবার ছাত্রভোট নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকার এবং উচ্চ শিক্ষা দফতরকে এই বিষয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছাত্রভোট নিয়ে রাজ্যের বর্তমান অবস্থান এবং পরিকল্পনা কী, তা আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট করতে হবে। প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি চৈতালি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চের তরফে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই নির্দেশ?
বস্তুত, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রভোট বহু বছর ধরে স্থগিত রয়েছে। বিরোধী শিবিরের ছাত্র সংগঠনগুলি একাধিকবার এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সম্প্রতি দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়া বাধ্যতামূলক, অথচ রাজ্যে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
আইনি লড়াইয়ে রাজ্যের যুক্তি
আদালতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য না থাকায় নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাছাড়া, প্রশাসনিক কিছু সমস্যাও ছাত্রভোট আয়োজনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আদালতের তরফে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রাজ্যের এই যুক্তি হলফনামার মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করতে হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকার এবং উচ্চ শিক্ষা দফতরকে হলফনামা জমা দিতে হবে। এই হলফনামায় ছাত্রভোট আয়োজনের বিষয়ে রাজ্যের বর্তমান পরিকল্পনা ও অবস্থান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। আদালতের এই নির্দেশ রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই নির্দেশের কীভাবে সাড়া দেয় এবং ছাত্রভোটের ভবিষ্যৎ কীভাবে নির্ধারিত হয়।