ভারতের অবস্থান কত?
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মাঝে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াচ্ছে অধিকাংশ দেশ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ গড়িয়েছে তৃতীয় বছরে, মধ্যপ্রাচ্য কাঁপছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সামরিক বাজেট বাড়ানোর পথেই হাঁটছে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলি। ভারতও ব্যতিক্রম নয়।
কারা রয়েছে শীর্ষে?
‘ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ (IISS)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে বিশ্বব্যাপী সামরিক খরচ পৌঁছেছে ২.৪৬ লক্ষ কোটি ডলারে, যা এক ঐতিহাসিক উচ্চতা। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যারা গত বছর প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করেছে ৯৬,৮০০ কোটি ডলার। চীন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে, তাদের বাজেট ২৩,৫০০ কোটি ডলার। বিশ্বের বৃহত্তম নৌবাহিনী গড়ে তুলতে এবং সামরিক আধুনিকীকরণে ব্যস্ত বেজিং।
রাশিয়ার সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই মস্কো তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে রাশিয়ার সামরিক বাজেট ছিল ১৪,৫৯০ কোটি ডলার। মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার সিকিউরিটি এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে এই ব্যয় বরাদ্দ করা হয়েছে।
ভারতের অবস্থান
ভারত সামরিক শক্তিতে বিশ্বের চতুর্থ স্থানে থাকলেও প্রতিরক্ষা বাজেটের দিক থেকে রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট দাঁড়িয়েছে ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা (প্রায় ৭,৮০০ কোটি ডলার)। গত বছরের তুলনায় এটি ৯% বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার এই বাজেট বাড়িয়ে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করার পরিকল্পনা করছে।
কীসে খরচ হবে?
ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করা হবে আধুনিক যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত অস্ত্রশস্ত্র কেনার জন্য। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, এ বছর মূলধনী ব্যয়ে বরাদ্দ করা হয়েছে ১.৯২ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে যুদ্ধবিমান এবং অ্যারো ইঞ্জিনের জন্য খরচ হবে ৪৮,৬১৪ কোটি টাকা। নৌবাহিনীর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২৪,৩৯০ কোটি টাকা।
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
রাশিয়া, চীন ও আমেরিকার পর ইউরোপীয় দেশগুলিও প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়াতে শুরু করেছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য তাদের বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব এবং জাপানও তালিকার শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছে।
সামনের দিনগুলি
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এই সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতা বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে। ভারত নিজের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই প্রতিযোগিতা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নজরে রাখছে গোটা বিশ্ব।