দুই বাংলার চলচ্চিত্র বাস্তবতা: খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে চঞ্চল চৌধুরী

খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে চঞ্চল চৌধুরী! দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগত— একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, তবু কাজের ধরনে রয়েছে স্পষ্ট কিছু পার্থক্য। সম্প্রতি কলকাতায় এসে এই বিষয়েই খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয়…

February 20, 2026
1 min read

খোলামেলা স্বীকারোক্তিতে চঞ্চল চৌধুরী!

দুই বাংলার চলচ্চিত্র জগত— একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, তবু কাজের ধরনে রয়েছে স্পষ্ট কিছু পার্থক্য। সম্প্রতি কলকাতায় এসে এই বিষয়েই খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী। তিনি সরাসরি তুলনা করতে না চাইলেও স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখনও পুরোপুরি পেশাদার কাঠামো তৈরি করতে পারেনি— আর এটাকেই তিনি বড় নেতিবাচক দিক বলে মনে করেন।

চঞ্চলের কথায়, দুই জায়গারই ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে তিনি অনেক ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, আবার পশ্চিমবঙ্গের কাজের পদ্ধতিও তাঁর কাছে প্রশংসনীয়। তবে একটি বিষয় তিনি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন— পরিকল্পনার ঘাটতি।

⏱️ পরিকল্পনা ও স্বচ্ছতার অভাব

চঞ্চলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে কোনও সিনেমার কাজ শুরু হওয়ার আগেই শুটিংয়ের সময়সীমা ও বাজেট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়। ফলে কাজের গতি থাকে সুসংগঠিত। কিন্তু বাংলাদেশে এই জায়গাতেই সমস্যা বেশি।

তিনি জানান, অনেক সময় নির্মাতারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থ জোগাড় করে একটি ছবি তৈরি করেন। কখনও বাজেট ১ কোটি থেকে শুরু হয়ে ১০ কোটিতেও পৌঁছে যায়— কিন্তু পুরো প্রক্রিয়ায় থাকে না নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা স্থির কাঠামো। এই অনিশ্চয়তা শিল্পকে পেশাদারভাবে এগোতে বাধা দেয় বলেই মনে করেন তিনি।

🎥 প্রেক্ষাগৃহ সংকট ও মুক্তির সমস্যা

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের আরেকটি বড় সমস্যা হিসেবে তিনি তুলে ধরেন প্রেক্ষাগৃহ কমে যাওয়ার বিষয়টি। গত কয়েক বছরে বহু হল বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে ছবির প্রদর্শনের সুযোগ সীমিত হয়েছে।

এর বিপরীতে পশ্চিমবঙ্গে তুলনামূলক বেশি সংখ্যক সিনেমা হল রয়েছে, মুক্তির সুযোগও বেশি। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও বাংলা ছবির প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে— যা শিল্পের বিস্তার ঘটাতে সাহায্য করছে।

📺 আশার আলো— ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

তবে সবটাই নেতিবাচক নয়। চঞ্চলের মতে, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশি সিনেমা ও সিরিজ আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছেছে মূলত এই ডিজিটাল মাধ্যমের কারণেই।

🤝 যৌথ উদ্যোগেই ভবিষ্যৎ

চঞ্চল বিশ্বাস করেন, দুই বাংলার শিল্পীরা যদি একসঙ্গে কাজ করেন, তবে দর্শকসংখ্যা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে শিল্পের দুর্বল দিকগুলোও ধীরে ধীরে কমে আসবে। তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে বাংলা ভাষার দর্শক রয়েছে— তাই বড় পরিসরে যৌথ প্রযোজনা সময়ের দাবি।

🎭 বর্তমান কাজ

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ব্রাত্য বসু পরিচালিত “শেকড়” ছবিতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর গল্প অবলম্বনে নির্মিত আরেকটি ছবিতে তিনি কাজ করছেন অভিনেত্রী পরীমণি-র সঙ্গে।


✨ শেষকথা

চঞ্চল চৌধুরীর বক্তব্যে উঠে এসেছে বাস্তবের স্পষ্ট ছবি— সমালোচনা যেমন আছে, তেমনই রয়েছে আশাবাদও। পরিকল্পনা, পেশাদারিত্ব ও যৌথ উদ্যোগ— এই তিনেই লুকিয়ে রয়েছে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের আগামী পথচলার সম্ভাবনা।

প্রোটিন শেক নয়, ‘ঘরোয়া খিচুড়ি’ই ভরসা: শরীরচর্চার পরে হৃতিক রোশন যা খান, জানলে চমক লাগবেই

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *