নিউটাউনে ছ’তলা থেকে ঝাঁপ! তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

নিউটাউনে ছ’তলা থেকে ঝাঁপ! কলকাতার ব্যস্ততম আইটি হাব নিউটাউনের বুকে আচমকা নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মী ছ’তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক অনুমান।…

March 20, 2025
0 min read

নিউটাউনে ছ’তলা থেকে ঝাঁপ!

কলকাতার ব্যস্ততম আইটি হাব নিউটাউনের বুকে আচমকা নেমে এল মৃত্যুর ছায়া। বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার এক উচ্চপদস্থ কর্মী ছ’তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক অনুমান। বুধবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ নিউটাউনের ইউনিটেক ভবনে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। নিহত যুবকের নাম দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য, বয়স চল্লিশের কোঠায়।

অফিসের ব্যস্ততার মাঝেই নেমে এল মৃত্যুর শীতল স্পর্শ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরের খাবারের পর সবাই যখন কাজে ব্যস্ত, তখনই নিঃশব্দে ছ’তলায় উঠে যান দ্বৈপায়ন। কেউ কিছু বোঝার আগেই নিচে ঝাঁপ দেন তিনি। বিকট শব্দ শুনে সহকর্মীরা ছুটে আসেন, দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত? ধোঁয়াশায় পরিবার ও সহকর্মীরা

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। তবে কেন দ্বৈপায়ন এই পথ বেছে নিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত জীবন, অফিসের চাপ, মানসিক অবসাদ— সব কিছুই খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তাঁর সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মানসিক চাপ নাকি অন্য কিছু? তদন্তে পুলিশ

তদন্তকারীদের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি পেশায় কর্মীদের উপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দীর্ঘ সময় কাজের চাপ, মানসিক অবসাদ, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন— এসব কি তাঁর মৃত্যুর কারণ? নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা পেশাগত কারণ লুকিয়ে আছে এই ঘটনায়?

পুলিশ ইতিমধ্যেই দ্বৈপায়নের ফোন ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি, অফিসের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

সময়ের আগে শেষ হয়ে গেল এক প্রতিভাবান কর্মীর জীবন

দ্বৈপায়নের মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার নয়, পুরো কর্পোরেট দুনিয়াতেই এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। তাঁর বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীরা বলছেন, তিনি অত্যন্ত দক্ষ ও পরিশ্রমী ছিলেন। অফিসে তাঁর আচরণে কখনও কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি। তাহলে হঠাৎ করে কেন এই ভয়ংকর সিদ্ধান্ত?

মনোবিজ্ঞানীদের পরামর্শ: মানসিক অবসাদকে হালকাভাবে নেবেন না

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানসিক অবসাদ ও চাপের লক্ষণ চিহ্নিত করাটা অত্যন্ত জরুরি। কর্পোরেট কর্মজীবনের চাপে অনেকেই ভেঙে পড়েন, কিন্তু পরিবার ও বন্ধুরা তা বুঝতে পারেন না। দ্বৈপায়নের এই আত্মহনন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, মানসিক স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করা কতটা ভয়ংকর হতে পারে।

শেষ কথা

এক প্রতিভাবান তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীর এভাবে অকালে চলে যাওয়া সমাজের জন্য এক সতর্কবার্তা। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি নাম মুছে যাওয়ার ঘটনা নয়, এটি সেই ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ ও বিষণ্ণতারই প্রতিফলন, যা অনেক কর্মী নীরবে বয়ে চলেছেন। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া, একে গুরুত্ব দেওয়া, এবং প্রয়োজন হলে সাহায্য নেওয়া— এটাই হওয়া উচিত এই ঘটনার শিক্ষা।

পুলিশের তদন্ত চলছে, কিন্তু একটি জীবন যে চলে গেল, তার আর ফেরার পথ নেই!

পরিচালকের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ! নুসরতের সই জাল, কী বলছেন প্রযোজকরা?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *