পৃথিবীতে ফিরলে কী মিস করবেন সুনীতা?
সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে, ১৯ মার্চ আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে পৃথিবীতে ফিরবেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস এবং তাঁর সহকর্মী বুচ উইলমোর। আট দিনের জন্য মহাকাশ অভিযানে গেলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাঁদের সেখানে ন’মাস কাটাতে হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার শেষে পৃথিবীতে ফিরলে কী সবচেয়ে বেশি মিস করবেন তিনি? মহাকাশ স্টেশন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
মহাকাশের প্রতিটি মুহূর্ত মিস করবেন
একটি সাক্ষাৎকারে সুনীতা বলেন, “আমি সব কিছুই মিস করব!” মহাকাশে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে, যা তিনি পৃথিবীতে ফিরে অনুভব করবেন বলে জানান।
‘টাইমস অফ ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি তাঁর তৃতীয় আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন সফর। এতদিন মহাকাশে থাকার ফলে তিনি ও তাঁর সহকর্মী একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি পেয়েছেন, যা সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশ দিয়েছে। তিনি চান, এই দৃষ্টিভঙ্গি ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে। তাঁর ভাষায়, “আমি এই অনুপ্রেরণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির স্ফুলিঙ্গ হারাতে চাই না। যখন পৃথিবীতে ফিরব, তখনও এটি আমার সঙ্গে থাকবে।”
পরিবারের জন্য কেমন ছিল এই অপেক্ষা?
ন’মাস ধরে মহাকাশে থাকার কারণে তাঁর পরিবার এবং কাছের মানুষদের জন্য সময়টা ছিল কঠিন। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার এবং বন্ধুরা এক প্রকার রোলারকোস্টারের যাত্রায় ছিলেন। তাঁদের পক্ষে অপেক্ষাটা আরও কঠিন ছিল, কারণ তাঁরা জানতেন না, আমরা কবে ফিরব।”
সুনীতা আরও বলেন, “আমরা প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু কাজ করতাম, যা আমাদের জন্য খুবই আকর্ষণীয় ছিল। কারণ আমরা মহাকাশে ছিলাম, যেখানে প্রতিটি দিনই নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। কিন্তু পৃথিবীতে থাকা আমাদের প্রিয়জনদের জন্য এই অনিশ্চয়তা অনেক কঠিন ছিল।”
পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতি চলছে
রবিবার আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছেন ক্রিউ-১০-এর চার নভোচারী— নাসার অ্যান ম্যাক্লেন, নিকোল আইয়ার্স, জাপানের টাকুয়া ওনিশি, এবং রাশিয়ার কিরিল পেসকভ। সুনীতা ও উইলমোর তাঁদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন এবং এখন তাঁদের পৃথিবীতে ফেরার প্রস্তুতি চলছে।
এই অভিযানে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স সংস্থার মহাকাশযান তাঁদের ফিরিয়ে আনবে। তাঁদের সঙ্গে ফিরবেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভোচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভ। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে, তাঁরা ফ্লোরিডার উপকূলে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৫৭ মিনিটে (মার্কিন স্থানীয় সময়) অবতরণ করতে পারেন, যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর সাড়ে ৩টা।
নতুন অভিজ্ঞতার জন্য প্রস্তুত
দীর্ঘ মহাকাশযাত্রার পর এবার পৃথিবীতে ফেরার সময় এসেছে। মহাকাশে ন’মাস থাকার ফলে তাঁর জীবনদর্শনেও এসেছে পরিবর্তন। তিনি চান, মহাকাশে শিখে আসা নতুন দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি পৃথিবীতেও কাজে লাগাতে।
পৃথিবীর মাটিতে ফেরার পর তিনি কেমন অনুভব করবেন? হয়তো নতুন অভ্যাস গড়তে কিছুটা সময় লাগবে, কিন্তু মহাকাশের এই অসাধারণ অভিজ্ঞতা তাঁকে সব সময় প্রেরণা জোগাবে। “মহাকাশ আমাকে বদলে দিয়েছে, আমি সেটাকে ধরে রাখব,”— বলেছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস।
সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধানের উদ্বেগ, ইউনূস প্রশাসনের কড়া প্রতিক্রিয়া