মহাকাশ স্টেশনে উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত: সহকর্মীদের পেয়ে আনন্দে অভিভূত সুনীতা উইলিয়ামস

সহকর্মীদের পেয়ে আনন্দে অভিভূত সুনীতা উইলিয়ামস! দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) এসে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের মহাকাশযান ড্রাগন। নতুন অভিযানের অংশ হিসেবে চার নভোচারী মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের…

March 16, 2025
1 min read

সহকর্মীদের পেয়ে আনন্দে অভিভূত সুনীতা উইলিয়ামস!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) এসে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের মহাকাশযান ড্রাগন। নতুন অভিযানের অংশ হিসেবে চার নভোচারী মহাকাশ স্টেশনে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন সেখানকার প্রবীণ সদস্যরা, যার মধ্যে অন্যতম ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস। দীর্ঘ ন’মাস মহাকাশে কাটানোর পর সহকর্মীদের দেখে সুনীতা ও তাঁর সঙ্গীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন। একে অপরকে ভাসমান অবস্থায় আলিঙ্গন করেন, উচ্ছ্বাসে হাততালি দেন, আর এই আবেগঘন মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

মহাকাশে আবেগঘন পুনর্মিলন

রবিবার (১৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী সকাল ১১টা ৫ মিনিটে স্পেসএক্স ক্রিউ-১০-এর চার নভোচারী মহাকাশ স্টেশনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন সুনীতা উইলিয়ামস, বুচ উইলমোর এবং তাঁদের সঙ্গীরা। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণহীন পরিবেশে সবাই ভাসছিলেন, আর সেই অবস্থাতেই একে অপরকে আলিঙ্গন করেন, শুভেচ্ছা জানান। মহাকাশ স্টেশনে দীর্ঘদিন কাটানোর পর নতুন সহকর্মীদের দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন সুনীতারা।

নাসার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, মহাকাশযানের দরজা খোলার পর একে একে বেরিয়ে আসছেন চার মহাকাশচারী—নাসার অ্যান ম্যাক্লেন ও নিকোল আইয়ার্স, জাপানের মহাকাশ সংস্থা (JAXA)-এর টাকুয়া ওনিশি এবং রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা (Roscosmos)-এর কিরিল পেসকভ। অপরদিকে, তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুত ছিলেন সুনীতা ও তাঁর সহকর্মীরা।

সুনীতা উইলিয়ামস নিজেই বলেন, “আজ আমাদের জন্য সত্যিই এক অসাধারণ দিন। এতদিন পরে নতুন সহকর্মীদের দেখে আনন্দে মন ভরে গেছে।”

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ফেরার প্রস্তুতি

২০২৪ সালের জুন মাসে সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর মহাকাশে রওনা দেন বোয়িং স্টারলাইনার মহাকাশযানে চড়ে। পরিকল্পনা ছিল মাত্র আট দিন মহাকাশে থাকার পর তাঁরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাঁদের ফেরার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ফলে তাঁরা আটকে পড়েন মহাকাশ স্টেশনে। সেই আট দিনের সফর দীর্ঘ নয় মাসে পরিণত হয়!

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবশেষে আগামী ১৯ মার্চ (বুধবার), ভারতীয় সময় দুপুর দেড়টা নাগাদ সুনীতারা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। তাঁদের ফেরাতে এবার ব্যবহার করা হবে স্পেসএক্সের ড্রাগন মহাকাশযান। এই ফেরার যাত্রায় সুনীতা উইলিয়ামস, বুচ উইলমোরের সঙ্গে থাকবেন নাসার নিক হগ এবং রুশ নভোচারী আলেকজান্ডার গর্বুনভ।

মহাকাশে আটকে থাকার গল্প

ন’মাস ধরে মহাকাশ স্টেশনে কাজ করার পাশাপাশি পৃথিবীর মানুষের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রাখছিলেন সুনীতা ও তাঁর দল। তাঁরা একাধিক সাংবাদিক বৈঠক করেছেন, পৃথিবী থেকে শিশুদের পাঠানো প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এবং মহাকাশ স্টেশনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন। তবে তাঁদের জন্য এটি শুধুই একটি দীর্ঘ অপেক্ষার সময় ছিল না, বরং মহাকাশ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়ও বটে।

নতুন অভিযানের দায়িত্ব দিয়ে বিদায়

স্পেসএক্স ক্রিউ-১০-এর নতুন সদস্যরা এখন মহাকাশ স্টেশনের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। তাঁদের উপরই নির্ভর করবে স্টেশনের গবেষণা কার্যক্রম ও রক্ষণাবেক্ষণ। দায়িত্ব হস্তান্তর করেই সুনীতারা পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা দেবেন।

এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে তাঁদের বাড়ি ফেরার সময় এসেছে। সুনীতারা যখন পৃথিবীর বুকে পা রাখবেন, তখন তা হবে শুধুমাত্র তাঁদের জন্য নয়, বরং সারা বিশ্বের মহাকাশপ্রেমীদের জন্যও এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত! 🚀🌍

ব্যান্ডেল চিজ়: বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের স্বাদ

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *