ললিত মোদীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত!
ভারতের বহুল আলোচিত আইপিএল প্রতিষ্ঠাতা ললিত মোদী আবারও খবরের শিরোনামে। ২০১০ সাল থেকে ভারতের বাইরে থাকা এই বিতর্কিত ব্যবসায়ীর নাগরিকত্ব নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ভানাটু, যেখান থেকে তিনি সম্প্রতি নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন, সেখানেই তাঁর পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে।
কেন বাতিল হলো ললিত মোদীর পাসপোর্ট?
ভানাটুর প্রধানমন্ত্রী জোথাম নাপাট সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন ললিত মোদীর পাসপোর্ট বাতিলের। অথচ কিছুদিন আগেই তিনি ওই দেশের নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। এর মধ্যেই তিনি ভারতীয় পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ভানাটু সরকার তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়, যা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ললিত মোদীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
ললিত মোদী যখন আইপিএলের শীর্ষপদে ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে বিশাল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রচুর অর্থ তিনি নয়ছয় করেছেন। ২০১০ সালে তিনি ভারত ছেড়ে লন্ডনে চলে যান এবং তারপর থেকেই তিনি সেখানেই বসবাস করছেন।
ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছে। তবে এত বছর পেরিয়ে গেলেও তাঁকে দেশে ফেরানো যায়নি। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কয়লা পাচার মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বিনয় মিশ্রও ভানাটুর নাগরিকত্ব নিয়েছিলেন, যা ভানাটুকে ভারতীয় অপরাধীদের জন্য একটি সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে চিহ্নিত করে।
ভানাটুর সিদ্ধান্তের পেছনে কারা?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ড-সহ আরও কয়েকটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ভানাটুকে চাপ দিয়েছিল ললিত মোদীর নাগরিকত্ব বাতিল করার জন্য। বিশেষ করে, নিউ জিল্যান্ডে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত নীতা ভূষণ তাঁর পাসপোর্ট বাতিলের ব্যাপারে উদ্যোগী ভূমিকা নিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ভারত সরকারও তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ললিত মোদীর ভবিষ্যৎ কী?
গত ৭ মার্চ ললিত মোদী লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে গিয়ে তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার আবেদন করেন। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “ললিত মোদী পাসপোর্ট জমা দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। তিনি ভানাটুর নাগরিকত্ব নিয়েছেন, সেটাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী যা সম্ভব, আমরা সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
তবে, ভানাটুর পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার পর ললিত মোদীর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি কি অন্য কোনো দেশে আশ্রয় চাইবেন, নাকি ভারত তাঁকে দেশে ফেরানোর নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে—এ নিয়ে এখন জল্পনা তুঙ্গে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে ললিত মোদীর বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং তাঁকে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে সক্রিয় কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভানাটুর সিদ্ধান্তের পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। এবার দেখার, ভারতের সরকার ও তদন্ত সংস্থাগুলো কীভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দেয়।
ভারতের বদলার জয়: ২৫ বছর পর নিউ জিল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি রোহিতদের হাতে