গত এক দশকে চিনের সামরিক বাজেট দ্বিগুণ বেড়েছে, যদিও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনা হয়েছে। টানা তিনটি অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭ শতাংশ হারে।
চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সরকার বুধবার বেজিংয়ের ‘গ্রেট হল অফ দ্য পিপল’-এ চতুর্দশ ন্যাশনাল কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশনে ঘোষণা করেছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা খাতে ২৪,৫০০ কোটি ডলার (প্রায় ২১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয় করা হবে। এই ঘোষণার ফলে সামরিক খাতে চিনের ব্যয়বৃদ্ধির হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
সামরিক আধুনিকীকরণের দোহাই
চিনের কমিউনিস্ট পার্টি জানিয়েছে, এই অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হবে পিপল্স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র আধুনিকীকরণের জন্য। ২০১৯ সালে চিনের সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট ৭.৫ শতাংশ বাড়িয়েছিল, কিন্তু এবার সেই বৃদ্ধির হার অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বোঝা যাচ্ছে যে, লাদাখ ও তাইওয়ান নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সামরিক শক্তি বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেজিং। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো চিনের সামরিক বাজেট ২০ হাজার কোটি ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল। এরপর থেকে এটি দ্রুত হারে বাড়ছে। পশ্চিমা সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ঘোষিত বাজেটের তুলনায় চিনের প্রকৃত সামরিক ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।
অর্থনীতি বনাম প্রতিরক্ষা বাজেট
অন্যদিকে, চিনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির তুলনায় কম। এটি স্পষ্ট যে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি মন্থর থাকলেও সামরিক খাতে ব্যয় বাড়িয়ে চিন নিজের ভূ-কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান ও ভারত সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করতে পারে বেজিং।
কী কৌশল জিনপিংয়ের?
শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ‘মহান চীনা পুনরুজ্জীবন’-এর কথা বলে আসছে, যার একটি বড় অংশ হল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা। পশ্চিমা পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বেজিং।
বিশ্ব রাজনীতিতে চিনের এই সামরিক কৌশল কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে একথা স্পষ্ট যে, জিনপিংয়ের সরকার প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে।
ভারতের উপর পাল্টা শুল্ক চাপাচ্ছেন ট্রাম্প! ঘোষণা করলেন নির্দিষ্ট তারিখও