বিজেপির ‘পুরনো’দের মনখারাপ!
বিজেপিতে বদল এলেই বদলে যায় মুখ। নতুন নেতৃত্ব আসে, পুরনোরা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। একসময় যারা দলের ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তাদের অনেকেই এখন সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরনো কর্মীদের সক্রিয় করতে এবার মাঠে নামছে আরএসএস।
🔄 ‘জমানা বদল’ মানেই পুরনোদের কোণঠাসা!
বিজেপিতে এক অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যায়— জমানা বদল মানেই সংগঠনের দায়িত্ব নতুনদের হাতে যাওয়া। কেন্দ্রীয় স্তর থেকে শুরু করে বুথ স্তর পর্যন্ত নতুন মুখদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, ফলে পুরনো নেতারা অনেক সময়েই সংগঠনের মূলস্রোত থেকে ছিটকে পড়েন।
এই সমস্যা শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, গোটা দেশেই লক্ষ করা যাচ্ছে। একসময় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলী মনোহর যোশী। নব্বইয়ের দশকে আডবাণীর রামরথ যাত্রা কিংবা যোশীর লালচকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বিজেপির ইতিহাসের মাইলফলক। অথচ আজ তাঁরা শুধুই অতীত! একইভাবে, বসুন্ধরা রাজে, উমা ভারতী, বিএস ইয়েদুরাপ্পা, রবিশঙ্কর প্রসাদ, শাহনওয়াজ হুসেন, বেঙ্কাইয়া নাইডু— এঁরাও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়।
🚨 পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘পুরনো’ নেতাদের হতাশা
বাংলায়ও এই প্রবণতা স্পষ্ট। ২০০০-এর দশকে বিজেপির সভাপতি ছিলেন অসীম ঘোষ, যাঁর নামই এখন অনেক তরুণ বিজেপি কর্মী শোনেননি! একসময় দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দুধকুমার মণ্ডল, কালোসোনা মণ্ডলরাও আজ বিস্মৃত।
এক প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ক্ষোভ উগরে বলেন—
“এঁরা বিজেপির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন, হামলা-মামলা সহ্য করেছেন, ঘরবাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু নতুন নেতৃত্ব এসে তাঁদের গুরুত্বই দিল না! ফলে তাঁরা হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ছেন।”
⚠️ কোণঠাসা নেতারা দলকে বিপদে ফেলছেন?
বিজেপিতে পুরনোদের অবহেলা শুধু তাদের দলবিমুখ করছে না, অনেকেই সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহও করছেন!
👉 ২০২১ সালে আলিপুরদুয়ারের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন, যা সেই অঞ্চলে বিজেপির সংগঠনে বড় ধাক্কা দেয়।
👉 ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়ার বিজেপি নেতা জীবন চক্রবর্তী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দাঁড়ান। যদিও তিনি বেশি ভোট পাননি, কিন্তু বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকারের পরাজয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
🛑 সমস্যার সমাধানে নেমেছে আরএসএস!
বিজেপির এই সমস্যা এতটাই প্রকট হয়েছে যে, এবার দলের ‘গার্ডিয়ান’ হিসেবে পরিচিত আরএসএস হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে।
✅ পুরনো নেতাদের মনোবল বাড়াতে আরএসএসের তরফে বৈঠক করা হচ্ছে।
✅ তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ থাকলেও, বিজেপির প্রতি হতাশা তৈরি হওয়ায় অনেক পুরনো কর্মী নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন— তাদের সক্রিয় করাই মূল লক্ষ্য।
✅ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে সংগঠনের পুরনো নেতৃত্বকে ফেরানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
📌 তাহলে কি বিজেপিতে ‘পুরনো’দের দিন ফিরবে?
বিজেপির পুরনো কর্মীরা আদৌ দলে সক্রিয় হবেন, নাকি আরও নতুন মুখ আসবে— সেটাই এখন দেখার। তবে এতদিন যারা দলকে গড়ে তুলেছিলেন, তাদের যদি ফেরানো না যায়, তাহলে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যা ২০২৬-এর নির্বাচনে তাদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলতে পারে।
আরএসএস চেষ্টা চালাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— পুরনো সৈনিকদের কি সত্যিই জায়গা দেওয়া হবে, নাকি তারা কেবল ভোটের আগে ‘ব্যবহার’ হয়ে হারিয়ে যাবেন?
৬.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল নেপাল, কম্পন অনুভূত শিলিগুড়িতেও! আতঙ্কে রাত কাটালেন বাসিন্দারা