সন্তানদের দেখতে চান, কাছে রাখতে চান! ভারত সরকারের কাছে আবেদন সীমা হায়দারের প্রাক্তন স্বামীর

ভারত সরকারের কাছে আবেদন সীমা হায়দারের প্রাক্তন স্বামীর দুই বছর আগে সীমা হায়দার এবং সচিন মীনার প্রেমকাহিনি ভারত এবং পাকিস্তানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের করাচি থেকে ভারতে এসে সীমা…

January 19, 2025
0 min read

ভারত সরকারের কাছে আবেদন সীমা হায়দারের প্রাক্তন স্বামীর

দুই বছর আগে সীমা হায়দার এবং সচিন মীনার প্রেমকাহিনি ভারত এবং পাকিস্তানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের করাচি থেকে ভারতে এসে সীমা তাঁর প্রেমের জন্য সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন চার সন্তানকেও। কিন্তু আজ সেই সন্তানদের ফিরে পেতে সীমার প্রাক্তন স্বামী গুলাম হায়দার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।

সম্প্রতি এক ভিডিয়োবার্তায় গুলাম হায়দার বলেছেন যে, তিনি ২০২৩ সালের শেষের দিক থেকে তাঁর সন্তানদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারতের একটি আইনজীবীকেও এই বিষয়ে নিযুক্ত করেছেন। কিন্তু আদালতে তাঁর মামলার কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে তাঁর দাবি। গুলামের বক্তব্য, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। আমি আমার সন্তানদের একবারের জন্যও দেখতে পাইনি। আমার আবেদন, আমাকে আমার সন্তানদের ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

সীমার প্রেমকাহিনির সূচনা

২০১৯ সালে একটি অনলাইন গেম খেলার সময় সীমা হায়দার এবং সচিন মীনার পরিচয় হয়। এই পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। লকডাউনের সময় অনলাইনে তাঁরা গভীর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ২০২২ সালে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, একসঙ্গে থাকার জন্য তাঁদের কিছু করতে হবে। এই লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা নেপালে যান এবং পশুপতিনাথ মন্দিরে গিয়ে সাতপাকে বাঁধা পড়েন।

এরপর ২০২৩ সালের ১৩ মে সীমা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি সচিনের সঙ্গে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় থাকতে শুরু করেন। কিন্তু এই ঘটনা ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে।

সীমা হায়দারের

গ্রেফতার ও বিতর্ক

৪ জুলাই সীমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে সচিন এবং তাঁর বাবাকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সীমার বিরুদ্ধে অবৈধ প্রবেশ এবং গুপ্তচরবৃত্তির মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া, নেপালে বেনামে হোটেল বুকিংয়ের ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। সীমা কেন তাঁর পরিচয় গোপন করেছিলেন, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সীমাকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি সচিনের সঙ্গে সংসার করছেন।

২০২৪ সালের শেষ দিকে সীমা একটি ঘোষণা করেন যে, তিনি মা হতে চলেছেন।

গুলাম হায়দারের অভিযোগ ও আবেদন

পাকিস্তানে থাকা গুলাম হায়দার তাঁর সন্তানদের দেখতে না পেয়ে ভারতের কাছে ন্যায়বিচারের আরজি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সন্তানদের ফেরত দেওয়ার জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “আমি শুধু একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানদের কাছে চাই। এটি আমার অধিকার। আমার সন্তানদের পাকিস্তানে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুন।”

বর্তমান পরিস্থিতি

সীমা এখন ভারতে সচিনের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং শীঘ্রই তাঁদের সন্তানের জন্ম হবে। অন্যদিকে, গুলামের দাবির বিষয়ে ভারতীয় আদালতে কোনও চূড়ান্ত রায় হয়নি। বিষয়টি এখনও বিচারাধীন।

এদিকে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবাধিকার এবং অভিবাসন আইন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। একটি সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিগত জীবনে নয়, দুই দেশের আইন এবং নীতিতেও ছাপ ফেলছে।

শেষ কথা

একদিকে সীমা এবং সচিন তাঁদের নতুন জীবন শুরু করেছেন, অন্যদিকে গুলাম হায়দার তাঁর সন্তানদের ফিরে পেতে মরিয়া। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং একটি জটিল মানবিক, সামাজিক এবং আইনি দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। এখন দেখার বিষয়, ভারতীয় আদালত এবং প্রশাসন এই বিষয়টি কীভাবে সমাধান করে।

মহাকুম্ভের ‘মোনালিসা’র খ্যাতি নিয়ে বিরক্তি! কেন বললেন, ‘দিনভর ছবি তুলতে ব্যস্ত’?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *