রক্তে জেহাদ, মৌলবাদ! তালিবানের ‘ভাই’ কি পশ্চিম এশিয়ায় দ্বিতীয় আফগানিস্তানের জন্ম দিচ্ছে?

তালিবানের ‘ভাই’ কি পশ্চিম এশিয়ায় দ্বিতীয় আফগানিস্তানের জন্ম দিচ্ছে? পশ্চিম এশিয়ায় কি শুরু হতে চলেছে তালিবানি শাসনের নতুন অধ্যায়? ভূমধ্যসাগরের কোলে সিরিয়া কি রূপ নিচ্ছে দ্বিতীয় আফগানিস্তানে? বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘হায়াত…

January 3, 2025
1 min read

তালিবানের ‘ভাই’ কি পশ্চিম এশিয়ায় দ্বিতীয় আফগানিস্তানের জন্ম দিচ্ছে?

পশ্চিম এশিয়ায় কি শুরু হতে চলেছে তালিবানি শাসনের নতুন অধ্যায়? ভূমধ্যসাগরের কোলে সিরিয়া কি রূপ নিচ্ছে দ্বিতীয় আফগানিস্তানে? বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘হায়াত তাহরির আল-শাম’ (এইচটিএস) এবং তাদের সহযোগী গোষ্ঠী ‘জইশ আল-ইজ্জা’ সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাস দখল করার পর থেকেই এই প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। চলমান গৃহযুদ্ধের আবহে বিদ্রোহীদের এই সাফল্য নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।

সিরিয়ার নতুন শাসক

গত ৮ ডিসেম্বর সিরিয়ার রাজধানী দামাস্কাসে হায়াত তাহরির আল-শাম এবং জইশ আল-ইজ্জার যৌথ বাহিনী প্রবেশ করে। ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ প্রাণভয়ে পালিয়ে রাশিয়ায় আশ্রয় নেন। বিদ্রোহীদের এই সাফল্যের পর হায়াত তাহরির আল-শাম মোহাম্মদ আল-বশিরকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি এই পদে থাকবেন। বিদ্রোহীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পশ্চিম সিরিয়া এবং ইদলিবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে বশিরকে এই পদে নিয়োগ করা হয়।

তালিবানের

তালিবান এবং এইচটিএস: মিল এবং অমিল

বিশ্লেষকদের মতে, তালিবান এবং হায়াত তাহরির আল-শামের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান যেমন মৌলবাদী আদর্শে পরিচালিত, তেমনই এইচটিএসও শরিয়া আইনকে তাদের শাসনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে। তবে কিছু অমিলও রয়েছে। তালিবানের মতো এইচটিএস পুরোপুরি মধ্যযুগীয় শরিয়া আইন অনুসরণ করে না। বরং তারা তুরস্কের মডেলে একটি আধুনিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এইচটিএস সংখ্যালঘুদের বিশেষত খ্রিস্টানদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তালিবানের চেয়ে ভিন্ন।

আমেরিকা এবং পশ্চিমের দৃষ্টিভঙ্গি

আমেরিকা এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) হায়াত তাহরির আল-শামকে একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদও তাদের একই তকমা দিয়েছে। ফলে সিরিয়ার নতুন সরকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এর আগে, তালিবানের ক্ষেত্রে একই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফিরে তালিবান বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি লাভ করতে পারেনি।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়ায় এইচটিএসের শক্তিশালী শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে আফগানিস্তানের মতো চিত্র দেখা যেতে পারে। তবে এক গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, সিরিয়া টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ইতিমধ্যেই ইজরায়েল গোলান মালভূমির দিক থেকে সিরিয়ার জমি দখল করেছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাচ্যুত আসাদের অনুগত বাহিনী নতুন করে হামলা চালিয়েছে। তাই সিরিয়ার অখণ্ডতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক পটভূমি

২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। আল-কায়দার সহযোগিতায় নুসরা ফ্রন্ট নামে একটি সংগঠন গঠিত হয়। পরে, ২০১৬ সালে নুসরা ফ্রন্ট আল-কায়দার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে হায়াত তাহরির আল-শাম গঠন করে। এই সংগঠনের প্রধান আবু মহম্মদ আল-জোলানি এক সময়ে নুসরা ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সিরিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে এই ইতিহাস।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক

তালিবান বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু সিরিয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার অবস্থান বিপরীত। রাশিয়া আসাদকে ক্ষমতায় ফেরাতে চায় এবং এইচটিএসকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরিকল্পনা করছে। এতে সিরিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

নারীর অধিকার এবং মৌলবাদ

তালিবানের শাসন নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য বিপর্যয় বয়ে এনেছে। আফগানিস্তানে নারীদের স্কুল-কলেজে যাওয়া কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। যদিও এইচটিএস নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের বিষয়ে তুলনামূলক উদারপন্থী অবস্থান নিয়েছে বলে দাবি করছে।

উপসংহার

সিরিয়ার হায়াত তাহরির আল-শামের শাসন পশ্চিম এশিয়ায় একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তালিবানের মতো এইচটিএস কি তাদের আদর্শের মাধ্যমে নতুন ধরনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, নাকি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গুটিয়ে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সিরিয়া একটি নতুন আফগানিস্তানে পরিণত হতে পারে।

প্রথম বলেই আউট বিতর্ক: বিরাট কোহলির নট আউট সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তেজনা, রোহিতের প্রতিক্রিয়া

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *