আগুনে ঘরহারা দখলদারদের ক্ষতিপূরণ নয়, জানিয়ে দিল রেল

আগুনে ঘরহারা জানিয়ে দিল রেল! শনিবার সন্ধ্যায় নিউ আলিপুরের দুর্গাপুর সেতুর নীচের বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পুরো বস্তির ঝুপড়িগুলিকে ভস্মীভূত করে দেয়। রবিবার, পোড়ামাটির মধ্যে বসবাসরত বাসিন্দারা তাদের…

December 23, 2024
1 min read

আগুনে ঘরহারা জানিয়ে দিল রেল!

শনিবার সন্ধ্যায় নিউ আলিপুরের দুর্গাপুর সেতুর নীচের বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা পুরো বস্তির ঝুপড়িগুলিকে ভস্মীভূত করে দেয়। রবিবার, পোড়ামাটির মধ্যে বসবাসরত বাসিন্দারা তাদের শেষ সম্বল খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কিছুই পাওয়ার আশা নেই, তবে তবুও আশায় রয়েছেন যে হয়তো কিছু বেঁচে থাকতে পারে। মুনমুন সরকার ও অন্যান্য বাসিন্দারা পোড়া ঘরের ছাই সরিয়ে তাদের কিছু বেঁচে থাকা জিনিস খুঁজতে চেষ্টা করেন।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সেখানকার বাসিন্দারা আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় স্কুল ও কলেজে সরিয়ে নিয়ে যান। প্রশাসন তাদের থাকার এবং খাবারের ব্যবস্থা করলেও, অনেকেই বস্তির মধ্যেই রাত কাটিয়ে দেন। যারা আশ্রয় শিবিরে গিয়েছিলেন, তারা পরদিন সকালের মধ্যে ফিরেছিলেন। বাসিন্দারা তাদের হারানো জিনিসের জন্য অনুশোচনায় ডুবে ছিলেন। যেমন কাকলি দাসের মতো একজন বাসিন্দা, যিনি পোড়া বাসন এবং আসবাব খুঁজতে সাহায্য পেতে স্বামীর সহায়তায় চেষ্টা করেছিলেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, দুর্গাপুর সেতুর মাঝখান দিয়েও ধোঁয়া উঠছিল এবং সেতুর লোহার কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ ঘটনার পর রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং জানিয়ে দেন যে, এটি রেলের জমি এবং এখানে গড়ে ওঠা সমস্ত ঝুপড়িগুলি অবৈধ। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের ভোটার-আধার কার্ড রয়েছে, তারপরও কেন বলা হচ্ছে যে আমরা অবৈধভাবে এখানে বসবাস করতাম?”

আশ্রয়হীন বাসিন্দাদের কাছে শুকনো খাবার, জল এবং শিশুদের জন্য দুধ বিতরণ করার জন্য সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। রাজ্য কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় ক্ষতিপূরণ দাবিতে রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তার মতে, এসব বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছিলেন এবং তাদের পরিচয়পত্রও ছিল, তাই তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন যে, দুর্গাপুর সেতুর ক্ষতির জন্য রেলকেও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সেতুর সেফটি অডিট না হওয়া পর্যন্ত সেতু বন্ধ রাখা উচিত।

অন্যদিকে, স্থানীয় পুরপ্রতিনিধি জুঁই বিশ্বাস বলেন, “রাজ্য সরকার আশ্রয়হীনদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, তবে পুনর্বাসন রেলকেই দিতে হবে, কারণ ওই জায়গা রেলের জমি।”

রেলের বক্তব্য

যদিও ক্ষতিপূরণের দাবি উড়িয়ে রেল প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে, ওই এলাকাটি একেবারে দখলদারি জায়গা এবং সেখানে বসবাসকারী সবাই অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করছিল। রেলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “অবৈধ দখলদারদের হটানোর জন্য মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হয়, তবে তারা বারবার ফিরে এসে বসে পড়েন। দখলদারি রেলের কাজ এবং যাত্রী সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক।”

রেলের এই বক্তব্যের পর ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁরা প্রশ্ন করছেন, যেহেতু তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাদের কাছে বৈধ পরিচয়পত্র রয়েছে, তাহলে তাদের ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না?

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এখনো পর্যন্ত, ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পষ্ট হয়নি। তবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি উঠছে, যাতে তারা অন্তত পুনর্বাসন এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা পায়। এর পাশাপাশি, সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত অংশের দ্রুত মেরামত এবং সেফটি অডিটেরও প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা শুধু তাদের হারানো ঘর-বাড়ির ক্ষতিপূরণই নয়, বরং তাদের বেঁচে থাকার জন্য নতুন করে একটি জীবিকা তৈরির সুযোগও চাচ্ছেন। ভবিষ্যতে, এই ধরনের দুর্ঘটনার পর ক্ষতিপূরণের বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা আগামী দিনগুলোতে স্পষ্ট হবে।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *