তপ্ত সংসদে মোদী-খড়্গের করমর্দন!
ভারতের সংসদে রাজনৈতিক চাপানউতোর এবং বিরোধী পক্ষের আন্দোলন সবসময়ই বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করে, তবে শুক্রবার সংসদে এক বিরল সৌজন্য দৃশ্য দেখা গেল। সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী এবং সরকার পক্ষের মধ্যে চলতে থাকা তর্ক-বিতর্কের মধ্যে, বিশেষ দিনটি ছিল ভারতরত্ন ড. বি. আর. অম্বেডকরের মহাপরিনির্বাণ দিবস। এই দিনে সংসদ ভবনে অম্বেডকরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করতে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেন।
যদিও গত কয়েক বছরে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন, শুক্রবার তাদের মধ্যে উপস্থিত সৌজন্য বিনিময় রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে। গত দু’বছরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে একাধিকবার মোদীকে বিষাক্ত সাপের সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীকেও বিভিন্ন সভায় ‘গান্ধী-নেহরু পরিবারের বশংবদ’ বলে আক্রমণ করেছেন। অন্যদিকে, মোদীও খড়্গেকে ‘গান্ধী-নেহরু পরিবারের অনুগত’ বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
এই পরিবেশে, শুক্রবার সংসদ ভবনে একটি অসাধারণ দৃশ্য উপস্থাপিত হয়। সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে, অম্বেডকরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। খড়্গেকে দেখে মোদী হাসিমুখে মাথা নাড়েন এবং তার সঙ্গে করমর্দন করেন, “কেমন আছেন?” বলে খোঁজ নেন। খড়্গে তাঁর সৌজন্য ফিরিয়ে দেন, এবং এই দৃশ্য একে অপরের প্রতি এক স্বাভাবিক রাজনৈতিক সৌজন্য প্রকাশ হিসাবে দেখা যায়।
এটি অনেকের কাছে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে: এই দৃশ্য কি সংসদের তপ্ত শীতকালীন অধিবেশনে কিছুটা সৌহাদ্যের বার্তা আনবে? সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে সমালোচনা এবং আদানি ঘুষ কাণ্ড নিয়ে বিরোধীদের দাবি এবং বিক্ষোভের মধ্যেও, এই সৌজন্য বিনিময় কি রাজনীতির আঙিনায় কিছুটা শান্তির প্রতীক হয়ে উঠবে? সরকারের পক্ষ থেকে কিছু নেতারা আশা করছেন, এই সৌজন্য বিনিময় সংসদে আলোচনার পরিবেশের উন্নতি ঘটাতে পারে। তবে বিরোধী দলের একাংশের মতে, রাজনৈতিক সৌজন্যতা যতই পরস্পরের মধ্যে চলুক, বাস্তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে তিক্ততা এবং দ্বন্দ্বই প্রধান।
এই ঘটনা থেকে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ভারতের রাজনীতিতে “সৌজন্য” কেবলমাত্র একটি পৃষ্ঠপোষকতা, যেখানে রাজনৈতিক চাহিদা এবং প্রয়োজনে আলাদা আঙ্গিকে লড়াই চলে। এমনকি একে অপরের প্রতি বিনিমিত সৌজন্যতা একে অপরের বিরোধিতা বা সমালোচনার মুখোমুখি হওয়ার পথের বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। বিরোধী পক্ষের অনেকেই মনে করেন যে, সরকারের সঙ্গে বিরোধী সম্পর্কের মাঝে একে অপরের মধ্যে সৌজন্য বিনিময়ের সত্ত্বেও রাজনীতি কখনোই থেমে থাকবে না, কারণ বাস্তব রাজনীতির মোকাবিলা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে থাকে।
তবে, শুক্রবারের সৌজন্য বিনিময় থেকে কিছুটা আশাবাদী মনোভাব থাকতে পারে। সরকার এবং বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের মাঝেও কিছু ক্ষণ সৌজন্য ও সহমর্মিতা প্রদর্শন করাটা যে নেতিবাচক নয়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কিন্তু, একইসঙ্গে, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে যখন বিষয়টি বাস্তব প্রভাব ফেলবে, তখন রাজনীতির তাপমাত্রা কেমন থাকবে, সেটি ভবিষ্যতই বলে দেবে।