ঘুষকাণ্ডে প্রতিক্রিয়া গৌতম আদানি
আমেরিকায় ওঠা ঘুষের অভিযোগ নিয়ে এবার সরাসরি মুখ খুললেন আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান গৌতম আদানি। শনিবার একটি অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে জানালেন, তাঁদের সংস্থা নীতি মেনে চলার জন্য দায়বদ্ধ। এ নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলোকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে উল্লেখ করে আদানি বললেন, প্রতিটি আক্রমণ তাঁদের আরও শক্তিশালী করে।
গৌতম আদানির প্রতিক্রিয়া
গৌতম আদানি বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আমেরিকা থেকে একাধিক অভিযোগ তোলা হয়েছে। এমন চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা প্রথমবার পড়ছি না। তবে প্রতিটি আক্রমণ আমাদের আরও মজবুত করে তোলে। আমরা সব সময় আইনি পথেই বিষয়গুলো মোকাবিলা করে আসছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের বিরুদ্ধে নানা স্বার্থান্বেষী মহল থেকে অসংখ্য ভ্রান্ত খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। তবুও বাস্তব সত্য এই যে, আদানি গোষ্ঠীর কেউ কোনও বিধি লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নন। আমরা কখনও বিচারের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করিনি।”
কংগ্রেসের কটাক্ষ
অন্যদিকে, আমেরিকায় আদানিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। শুক্রবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, আমেরিকায় এই মামলার তদন্তে ভারত সরকার অংশ নিচ্ছে না। এটি একটি ‘বেসরকারি সংস্থা, কয়েকজন ব্যক্তি এবং আমেরিকার বিচার বিভাগীয় দফতরের’ মধ্যকার বিষয়।
তবে, এই বক্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। তিনি বলেন, “এই তদন্ত তো কার্যত ভারত সরকারের বিরুদ্ধেই। তাহলে তারা কীভাবে নিজের বিরুদ্ধে তদন্তে অংশ নিতে পারে?” কংগ্রেসের তরফে আদানি গোষ্ঠীর কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এর পেছনে সরকারকে দায়ী করা হয়েছে।
কী নিয়ে অভিযোগ?
আমেরিকার বিচার বিভাগ এবং বাজার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আদানি গোষ্ঠী, গৌতম আদানির ভাইপো সাগর আদানি এবং আদানি গ্রিন এনার্জির কিছু শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সৌর বিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পাওয়ার জন্য ঘুষ দেওয়া হয়েছে এবং সেই তহবিল গোপন করে প্রতারণা করা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই মামলায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা নেই। এটি পুরোপুরি আমেরিকার আইনি ব্যবস্থার আওতাভুক্ত।
ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব
এ ধরনের অভিযোগ আদানি গোষ্ঠীর সুনাম এবং ব্যবসার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলগুলো আদানি গোষ্ঠী ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা করে আসছে। কংগ্রেসের বক্তব্যের ফলে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক তাপ বাড়িয়েছে।
গৌতম আদানি অভিযোগগুলোকে প্রত্যাখ্যান করলেও, আমেরিকার বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম আদানি গোষ্ঠীর উপর কেমন প্রভাব ফেলে, তা ভবিষ্যতে বোঝা যাবে। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা তুঙ্গে রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা কিংবা ভিত্তিহীনতার প্রমাণ শেষ পর্যন্ত বিচার ব্যবস্থাই দেবে।