আজাজ খান নিয়ে বিতর্কিত
আজাজ খানের জীবনের ওঠাপড়া এক আকর্ষণীয় গল্প। ১৯৮০ সালের ৩০ মে গুজরাতের আমদাবাদে জন্ম এই অভিনেতার। সেখানেই তাঁর স্কুল এবং কলেজের শিক্ষা সম্পন্ন হয়। অভিনয় জগতে পা রাখার আগে তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামের, লন্ডন এবং নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে উপার্জন করতেন।
২০০৩ সালে ‘পথ’ নামে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। এরপর একতা কাপুরের হিন্দি ধারাবাহিক ‘কয়া হোগা নিম্মো কা’ তাঁকে ছোটপর্দায় জনপ্রিয় করে তোলে। আজাজ শুধু টিভি সিরিয়ালেই থেমে থাকেননি, হিন্দি এবং তেলুগু ছবিতেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য হিন্দি ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘লমহা’, ‘রক্তচরিত্র ২’, ‘বুঢ়া হোগা তেরা বাপ’।
তবে আজাজের ব্যক্তিগত জীবন সবসময় বিতর্কে মোড়া ছিল। শোনা যায়, একটি ছবি তৈরির জন্য দুবাইয়ের এক তরুণীর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে আর তা শোধ করেননি। ২০১৩ সালে রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস্’ এবং পরে ‘খতরো কে খিলাড়ি’-তেও প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু শো চলাকালীন তাঁর আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন।
আজাজের জীবনে বড় ধাক্কা আসে ২০১৮ সালে, যখন মাদককাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়ে যায়। এরপর আরও কয়েকবার আইনি ঝামেলায় পড়তে হয় তাঁকে, যার মধ্যে ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। ২০২১ সালে আবার মাদককাণ্ডে গ্রেফতার হয়ে ২৬ মাস কারাগারে কাটান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জেলে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
রাজনৈতিক মঞ্চেও পা রাখার চেষ্টা করেছিলেন আজাজ। ২০২৪ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে ভরসোভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে মাত্র ১৫৫ ভোট পেয়ে তাঁর অবস্থান হয়েছিল একাদশ।
আজাজের এই ব্যর্থতার পরও সমাজমাধ্যমে তাঁর জনপ্রিয়তা কমেনি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামী ৫৬ লক্ষেরও বেশি। ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমেও তিনি নিজের জীবনধারার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আজাজ খান একজন বিতর্কিত চরিত্র হলেও তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় থেকে সবারই শেখার মতো কিছু না কিছু রয়েছে।