১৩ জন নাবালক উদ্ধার
নভেম্বর মাসের শুরুতেই পূর্ব রেল পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযান এ পর্যন্ত ১৩ জন নাবালককে উদ্ধার করেছে, যাঁরা বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে পাচারের শিকার হয়েছিলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই শিশু-কিশোরদের কেটারিং সংস্থা বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভন দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ ধরনের ঘটনা একদিকে যেমন উদ্বেগজনক, অন্যদিকে ট্রেনে যাত্রা করানোর জন্য পাচারকারীরা শিশুদের তাদের বয়স লুকিয়ে ফেলা, টিকিট কেটে দিতে এবং নানা ছলনার আশ্রয় নিচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ট্রেনে যাত্রা করতে বাধ্য হওয়া শিশু-কিশোররা
প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে, বিভিন্ন ট্রেনে একা সফরকারী শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ক্রমশই বাড়ছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। পূর্ব রেলের আরপিএফ (রেলওয়ে প্রটেকশন ফোর্স) বিষয়টি লক্ষ্য করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে ১৩ জন নাবালককে উদ্ধার করা হয়, যাঁদের বেশিরভাগকে প্রলোভন দেখিয়ে ও ভয় দেখিয়ে ট্রেনের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
পাচারের শিকার হওয়ার আগে নাবালকদের প্রলোভন
অভিযোগ রয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পাচারকারীরা শিশু-কিশোরদের বিউটি পার্লার কিংবা কেটারিং সেবার কাজে যুক্ত করার জন্য প্রলোভন দেখায়। তাদের বলা হত, এসব কাজের মাধ্যমে তারা একদিকে যেমন উপার্জন করবে, তেমনি নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে পারবে। তবে, প্রকৃত পরিস্থিতি ছিল একেবারেই বিপরীত। অভিযুক্তরা শিশুদেরকে একা সফর করতে বাধ্য করছিল, যাতে তারা কখনও তাদের অবস্থান জানাতে না পারে।
কিছু ক্ষেত্রেই পাচারকারীরা ট্রেনের টিকিট কেটে শিশুটিকে পাঠিয়ে দিত, যাতে তাদের ধরা পড়ার ঝুঁকি কম হয়। ভয় এবং প্রলোভনের মুখে শিশুরা কখনও তাদের বয়স, পরিচয়, অথবা ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে সঠিক তথ্য জানাতে পারছিল না। তাদের অজান্তেই তারা পাচারের শিকার হয়ে যেত।
উদ্ধার অভিযান এবং গ্রেফতার
এদিকে, আরপিএফের একটি টিম সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা এক কিশোরীর খোঁজ পেতে গিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধার অভিযানে আরপিএফ আরও পাঁচজন নাবালক-নাবালিকাকে উদ্ধার করতে পেরেছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আরপিএফ সূত্রে জানা গেছে, এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে তারা আরও কঠোর নজরদারি বাড়াবে। ওই সমস্ত পাচারকারী চক্রের সদস্যরা যাতে আর কোনো শিশু-কিশোরকে প্রতারণা করতে না পারে, সেজন্য ট্রেনে আরও তৎপরতা বাড়ানো হবে।
চরম উদ্বেগের বিষয়
এই ধরনের ঘটনা শুধু পুলিশ কিংবা রেল কর্তৃপক্ষের জন্যই নয়, সমাজের সবার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর-কিশোরীদের এমন বিপথে যাত্রা একদিকে যেমন তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা নিয়ে আসে, তেমনি পরিবারগুলিকেও বিপদে ফেলে। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের পাচার চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে প্রতিটি শিশুর জীবন নিরাপদ থাকে।
এ ধরনের বিপথগামী শিশুদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য সমাজের প্রত্যেক সদস্যের দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত জরুরি।