উত্তর হাওড়ার সালকিয়া এলাকায় উড়ালপুল তৈরির প্রক্রিয়া এখনও পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও এই প্রকল্পের জন্য ৩৪ বছর আগে কাজ শুরু হয়েছিল। ১৯৯০ সালে হাওড়া পুরসভা এই উড়ালপুল তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করে, উদ্দেশ্য ছিল জি টি রোডের ওপর যানজট কমানো। কিন্তু সময় গড়ানোর সাথে সাথে এটি এক দীর্ঘ আইনি যুদ্ধের মধ্যে পড়ে যায় এবং আজও প্রস্তাবিত উড়ালপুলের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ ও ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের কাজ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে হাওড়া পুরসভা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা স্থাপিত না হওয়ায় নানা আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। সালকিয়া বিজনেসমেনস অ্যাসোসিয়েশন নামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি শুরু থেকেই দাবি জানায়, পুনর্বাসনের জন্য ব্যবসায়ীদের এমন জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে তাদের ব্যবসা সঠিকভাবে চলতে থাকবে। পরবর্তীতে হাওড়া উন্নয়ন সংস্থা (HIT) এই দায়িত্ব নিলেও, বিকল্প জমি নিয়ে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের কারণে এই সমস্যার সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট স্থানে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই আইনি বাধাগুলোর কারণে সালকিয়া উড়ালপুলের নির্মাণে বিভিন্ন ধরনের বিলম্ব ঘটেছে। ২০১৪ সালে, তৎকালীন বিধায়ক অশোক ঘোষের উদ্যোগে, তৃণমূলের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সালকিয়া এলাকায় পুনর্বাসন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। তবে একাধিক আইনি বাধার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি।
প্রথমে এই উড়ালপুলের জন্য খরচ নির্ধারিত ছিল ৬৯ কোটি টাকা, কিন্তু এই প্রকল্পের মূল্য এখন বহুগুণ বেড়ে গেছে। কেএমডিএ (কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি) যেসব দোকান অধিগ্রহণ করেছিল, সেগুলি বর্তমানে মালিকানা হারিয়ে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। ব্যবসায়ীরা এই দোকানগুলোর সংস্কার করতে পারছেন না, কারণ তাদের মালিকানা নেই। এছাড়াও, সীতানাথ বসু লেনে তৈরি করা ৬৪টি ফ্ল্যাটও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক বরুণ দে, যিনি জানিয়েছেন, ‘‘সেই রায়ের পর প্রকল্পটি ধামাচাপা পড়ে গেছে। ফ্ল্যাটগুলো এখনও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, আর দোকানগুলোও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।’’
বর্তমান বিধায়ক গৌতম চৌধুরী জানিয়েছেন, “আমরা চাই, এই উড়ালপুল তৈরি হোক, কিন্তু কিছু আইনি জটিলতার কারণে তা আটকে আছে। যদি উড়ালপুলটি তৈরি হয়, তাহলে উত্তর হাওড়ার বাসিন্দাদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।”
তথ্য অনুযায়ী, যেসব জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল এবং যে আবাসন তৈরি হয়েছিল, তা এখন শাসকদলের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে অকেজো হয়ে পড়েছে। এই প্রকল্পের ধীরগতির কারণে বহু বছর ধরে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের আশাভঙ্গ হয়েছে, কিন্তু প্রশাসন এখনো কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।